দমবন্ধ হয়ে ১০ সদ্যোজাতর মৃত্যু, মহারাষ্ট্রের হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

শুক্রবার মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) একটি হাসপাতালে আগুন লেগে যাওয়ায় ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১০ জন শিশুর। ডিস্ট্রিক্ট জেনারেল হাসপাতালে শুক্রবারে ভর্তি ছিল মোট ১৭ জন শিশু। যাদের মধ্যে ৭ জন কে উদ্ধার করা গেলেও বাকিরা ওই সময়ের মধ্যেই দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। 10 newborns die of suffocation, terrible fire in Maharashtra hospital.

মহারাষ্ট্রে অবস্থিত এই হাসপাতালটি মুম্বাই থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরে। শুক্রবার হঠাৎ করেই এই হাসপাতালে আগুন লেগে যায়। ‌ প্রথমে হাসপাতালের নার্স এবং স্টাফেরা কেউ কিছু বুঝতে পারে না। পরে ধোয়া বেরোতে শুরু করলে তারা বুঝতে পারেন হাসপাতালে আগুন লেগেছে। তবে আগুন লাগলে ওই হাসপাতালের ফায়ার এলার্ম বেজেছিল কিনা সেই বিষয়ে এখনও জানা যায়নি। আদৌ ওই হাসপাতলে ফায়ার এলার্ম এর ব্যবস্থা ছিল কিনা সেই বিষয়ে ধন্দ্ব রয়েছে।

আগুন লাগলে প্রথমে নার্সরা বুঝতে না পারলেও যেই মুহূর্তে তারা বুঝতে পারেন যে ওই হাসপাতালে আগুন লেগেছে সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ছুটে যান যেই ওয়ার্ডে শিশুরা ভর্তি ছিল। নবজাতক কেয়ার ইউনিট অর্থাৎ sick newborn care unit (SNCU) এ সেদিন ভর্তি ছিল ১৭ জন শিশু। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানা যায় সেই সমস্ত শিশুদের সকলেরই বয়স প্রায় ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে। এই ১৭ জন শিশুর মধ্যে ওই অল্পসময়ের মধ্যে হাসপাতালের স্টাফ এবং নার্সরা বাঁচাতে পেরেছেন কেবলমাত্র ৭ জন শিশুকে। বাকি ১০ জন বিধ্বংসী সেই আগুনের লেলিহান শিখার কালো ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরে এই ঘটনার পেছনে কি কারণ লুকিয়ে রয়েছে সেই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।‌ পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে, ডিসট্রিক্ট কালেক্টর এবং ভান্ডারা জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এর সঙ্গে একটি বৈঠকে‌ বসেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী।

হাসপাতালে এই বীভৎস অগ্নিকাণ্ডের পিছনে কি কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে স্থানীয় পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানায় শর্ট সার্কিট থেকে এই এই অগ্নিকাণ্ড। কোনভাবে ইলেকট্রিক লাইনে কোথাও শর্ট সার্কিট হয়ে যাওয়ার ফলে এই সেখান থেকে আগুন লাগে। পরে সেই আগুন হাওয়ায় এবং দাহ্য পদার্থের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে গোটা হাসপাতালে।