রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উদ্দেশ্যে খাবার বিলি করে তোপের মুখে দিল্লির ৩ রেস্তোরাঁ

রোহিঙ্গাদের খাবার বিতরণ নিয়ে এবার ঝড় উঠলো সোশ্যাল মিডিয়ায়।দিল্লির একটি রেস্তোরাঁ সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের খাবার বিতরণ করা হয় তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন তুলছে নেটিজেনরা।শুধু তাই নয় সেই রেস্টুরেন্টের রিভিউ বোর্ডে বিভিন্ন অনলাইন ফুড অ্যাপে রেটিংও কম দেওয়ার মতো ঘটনা শুরু হয়েছে। কেন রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে খাবার বিতরণ করছে দিল্লির তিনটি রেস্তোরাঁ, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন নেটিজেনরা।এই তিনটি রেস্টুরেন্ট এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে যার ফলে ফাঁপরে পড়তে হয়েছে এই রেস্তোরাঁগুলি কে।

Rohingya people
Rohingya people

নবরাত্রি উপলক্ষে দিল্লির এই তিনটি রেস্তোরাঁ রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু এই মহৎ উদ্দেশ্যকে ঘিরে যেভাবে জল্পনা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, এ রকমটা হবে তা রেস্তোরাঁর আধিকারিকরা স্বপ্নেও ভাবেননি। যে মহৎ কাজের জন্য সবাই তাদের সাধুবাদ জানিয়েছে, সেই কাজেই যে এইটিন রেস্তোরাঁকে বিপদের মুখে ঠেলে দেবে সেটা বোধ হয় তারা আন্দাজ করতে পারেনি। এর ফলে রেস্তোরাঁর মালিকদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ, হতাশ হয়েছেন রেস্তোরাঁয় আধিকারিকেরা। দিল্লির এই তিন রেস্তোরাঁর তালিকায় রয়েছে জোশ, দা হাই এনার্জি বার ও শিবম সেহগলের দোকান।

একটি সংবাদ সংস্থা এ বিষয়ে খবর করে যে দিল্লির রেস্তোরাঁ গরিব মানুষদের মধ্যে এই খাবার বিলি করে সকলকে খুশি রাখার চেষ্টা করছে উৎসবের মরসুমে। এর উত্তরে শিব সেহগল বলেন, ‘‌আমরা মাঝে মাঝেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে জোট বেঁধে সাধারণ গরিব মানুষের মধ্যে আনন্দ ভাগ করে নিতে চেষ্টা করি। এবারেও আমরা তেমনই করেছিলেন। ভাল চিন্তাভাবনা নিয়েই দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাবার বণ্টনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংসবাদ সংস্থার সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। তাঁরা সকলেই অভিযোগ করে বলেন, যে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সুযোগ পেলে অন্য ধর্মকে আক্রমণ করে, তাঁদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার কী আছে?‌’‌

এর পরেই সেই তিনটি রেস্তোরাঁর রেটিং হু হু করে পড়তে থাকে। বয়কটের ডাক ওঠে এই তিন রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে। এই তিন রেস্টুরেন্টের তালিকা শেষ রেস্টুরেন্টের নাম হল স্বাগত। এই ঘটনার কবে থেকে পরিপ্রেক্ষিতে রেস্তোরাঁর আধিকারিকদের বলতে শোনা যায় খাবারের কোন ধর্ম হয় না, খাবার সকলের প্রাপ্য। যাদের খাবার প্রয়োজন তাদের আমরা খাবার দেব। তবে অন্যের ভালো করতে গিয়ে আছেরে যে রেস্তোরাঁগুলি নিজেদের ক্ষতি হয়েছে সে কথাও স্বীকার করতে ভোলেননি রেস্তোরাঁয় মালিকরা।