৬ বছরের শিশুকে গণধর্ষণ করে খুন, কালাজাদু করতে বের করা হল ফুসফুস, উত্তর প্রদেশের ঘটনা

ব্ল্যাক ম্যাজিক আদৌ সত্যিই কি না, আদৌ এর কোন অস্তিত্ব আছে কিনা এই নিয়ে এক প্রস্থ আলাপ-আলোচনা, তর্ক বিতর্ক সমাজে আগেই হয়ে গেছে। তবুও এখনও তথাকথিত সভ্য সমাজ কালা জাদুর নির্মম নিদর্শন দেখিয়ে চলছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে ৬ বছরের একটি বাচ্চা মেয়েকে গণধর্ষণ (Gang rape) করে খুন করে তার শরীর থেকে ফুসফুস বের করে নেওয়া হয়, এক নিঃসন্তান মহিলার সন্তান কামনার উদ্দেশ্যে কালা জাদু করার জন্য।

8-year-old girl gang-raped and murdered, lungs taken out for black magic, incident in Uttar Pradesh

এর আগেও একাধিকবার নারী সম্পর্কিত অপরাধের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যকে। এর কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশের (UP) হাথরসে এক তরুনীর নির্মম ধর্ষণ এবং মৃত্যুর ঘটনা উঠে এসেছিল পৃথিবীর সামনে। যার জন্য বারবার বিপাকে পড়তে হয়েছিল উত্তর প্রদেশকে। এবারেও বাদ গেল না উত্তর প্রদেশের নাম। ফের নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলো উত্তরপ্রদেশে। এবারে স্থান কানপুরের ভদ্রস গ্রাম।

কালী পূজা উপলক্ষে ৬ বছরের ওই নাবালিকা বাজি কিনতে বেরিয়েছিল সন্ধ্যেবেলায়। সেই সুযোগ নিয়েই তার ওপরে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রথমে ওই নাবালিকাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ (sexual assault) করা হয়। এরপর সেই নাবালিকাকে খুন করে দুষ্কৃতীরা। শুধু তাই নয়, খুন করার পর সেই নাবালিকার শরীর থেকে ফুসফুস বের করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে দু জনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের নাম অঙ্কুল কুরিল, বয়স ২০ বছর এবং বিরান বয়স ৩১ বছর।

Girl rapes and sexual assault. 8-year-old girl gang-raped and murdered, lungs taken out for black magic, incident in Uttar Pradesh

এই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পর পুলিশের সামনে উঠে আসে আসল অভিযুক্তের নাম। জানা যায় পরশুরাম নামে এক ব্যক্তির কথায় তারা এই নৃশংস কাজ করেছে। পরশুরাম নামে ওই অভিযুক্তকে প্রথমে জেরা করে পুলিশ কিছুই জানতে পারেনি। এ কথা সে কথা বলে পুলিশকে ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিল সে। কিন্তু শেষমেশ পুলিশের জেরা ধরা পড়েছে পরশুরাম। জেরা করে জানা যায় পরশুরামের এবং তার স্ত্রী ১৯৯৯ সালে বিয়ে করলেও, এখনো পর্যন্ত কোনো সন্তানের মুখ দেখতে পায়নি তারা। সেজন্যেই সন্তানের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল এই দম্পতি। ফলত কালা জাদুর সাহায্য নেওয়ার কথা তাদের মাথায় আসে। যে কারণে প্রয়োজন হয়ে পড়ে একটি বাচ্চা মেয়ের ফুসফুসের। অঙ্কুল কুরিল, বিরান, পরশুরামের সাথে পরোক্ষভাবে এই ঘটনায় জড়িয়ে থাকার দরুন পরশুরামের স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা করা হয়। এমনকি পসকো আইন অনুযায়ী দণ্ডিত করা হয় তাদের।