উল্কাপিণ্ড বিক্রি করে রাতারাতি বড়লোক ইন্দোনেশিয়ার এক বাসিন্দা

এইরকম ঘটনা বোধহয় সিনেমাতেও ঘটে না। অলৌকিক গল্পের বইয়েও পড়া যায় না এই গল্প। তবে সুমাত্রায় এক দরিদ্র শ্রমিকের সাথে এই ঘটনাই ঘটেছে। হঠাৎ করেই বাড়িতে উড়ে এসে পড়েছে একটি পাথর। পরে জানা যায় সেটি কোনো সাধারণ পাথর নয়। যে পাথর সেই দরিদ্র শ্রমিকের বাড়িতে এসে পড়েছে সেটি কোন গ্রহের অংশবিশেষ।

ঘটনাটি ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) উত্তর সুমাত্রার কোলাঙ্গে‌। সেখানেই থাকেন জোসুয়া হুটা। একদিন হঠাৎই বাড়ির বাইরে নিজস্ব কাজ করছিলেন বছর তেত্রিশ এর ওই যুবক। কাজ করতে করতে কিছুই টের পাননি তিনি। হঠাৎ করে এক বিকট শব্দে চমকে ওঠেন হুটা। প্রথমটা কিছুই বুঝতে পারেননি। পরে বাড়ির সামনে গিয়ে দেখেন বাড়ির চালের এক অংশ ফুটো হয়ে গিয়েছে। উড়ে গিয়েছে বাড়ির চাল। তা দেখে রীতিমতো ভয়ে শিহরিত হয়ে ওঠেন তিনি। ভয় এবং বিস্বয় তাকে গ্রাস করে। তখনই তাড়াহুড়ো করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে হুটা। বাড়ির ভেতরে ঢুকে দেখে বাড়ীর ভেতরও তছনছ হয়ে গিয়েছে।

হঠাৎ হওয়া ওই বিকট আওয়াজে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন হুটার বাড়িতে। আর তারা এসে যা দেখেন তাতে তাদের চক্ষু চড়কগাছ। বাড়ির ভেতরে পড়ে রয়েছে একটি পাথর। আর বাড়ির সমস্ত জিনিস তছনছ হয়ে গিয়েছে। এমনকি ঘরের চাল ফুটো হয়ে গিয়েছে এবং উড়ে গিয়েছে সেই চালের একাংশ। একটা পাথরের এত ক্ষমতা যে তা নিমেষে একটি ঘর তছনছ করে দিল! কি এমন পাথর সেটি! এই প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খেতে থাকে তখন। এমনকি সেই পাথরটি সেইসময় উত্তপ্ত ছিল। যা প্রতিবেশীদের আরও ভাবিয়ে তোলে।

এরপরে ওই পাথরটির ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। তা সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হতে শুরু করে। এরপরে জানা যায় সেটি কোন সাধারন পাথর নয় সেটি একটি উল্কা খন্ড এবং উল্কাপাতের ফলেই ওই বাড়ীর চাল ফুটো হয়ে ঘর তছনছ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে যদিও পাথরটির স্থানীয় প্রশাসনের হাতে রয়েছে। তরল নাইট্রোজেনে ডুবিয়ে সেটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই পাথরটি হুটা বিক্রি করেছেন প্রায় ১০ কোটি টাকায়। সেই টাকার এক অংশ খরচা করেছে বাড়ি সারাবার উদ্দেশ্যে, কিছু অংশ রেখেছে নিজের সংসার খরচের জন্যে। বাকি টাকাটা তিনি স্থানীয় একটি গির্জা‌ তৈরীর উদ্দেশ্যে দান করেছেন এবং বেশ কিছু টাকা দান করেছেন অনাথ আশ্রমে।