বঙ্গবন্ধুর পর ভাঙা হলো বিপ্লবী বাঘাযতীন মূর্তি! বাংলাদেশে নিজের গ্রামেই আক্রান্ত

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের (Freedom Fighter) অন্যতম নাম বাঘাযতীনের (Baghajatin)। বিপ্লবী হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা। কিন্তু যে মাটিতে তাঁর জন্ম , আজ সেখানেই তাঁর আর কোনো সম্মান নেই। সম্মান প্রদর্শন তো দূর, একটি বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত বাঘাযতীনের মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের প্রবাদ প্রতীম ৭ ই ডিসেম্বর ১৯৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের কয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। আর এই কয়া গ্রামেরই এক বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল তাঁর মূর্তি। After Bangabandhu Freedom Fighter Baghajatins Statue attacked in Bangladesh.

Freedom Fighter Baghajatin

কয়া গ্রামের কয়া মহাবিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল বাঘাযতীন এর মূর্তি। ৬ ই ডিসেম্বর ২০১৬ সালে এই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাঘাযতীন এর স্মৃতির উদ্দেশ্যেই তাঁকে সম্মান জানিয়ে তাঁর মূর্তি ওই স্কুলে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। কিন্তু সেই মূর্তিই ভেঙে দেয় কিছু দুষ্কৃতী। বাংলাদেশে মনীষীদের মূর্তি ভাংচুর নতুন কোনো ঘটনা না। এর আগে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু (Bangabandhu) শেখ মুজিবুর রহমানের (Sheikh Mujibur Rahman) মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর বৃহস্পতিবার সারা দিন ওই মূর্তি টি অক্ষত ছিল। কিন্তু শুক্রবার সকালেই সেই মূর্তি টিকে ভাঙ্গা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের মতে, বৃহস্পতিবার রাতেই দুষ্কৃতীরা কয়া মহাবিদ্যালয়ের সেই প্রতিষ্ঠিত মূর্তির ওপর আক্রমণ করে। শুক্রবার সকালে বাঘাযতীন এর যে ক্ষত বিক্ষত মূর্তি টি উদ্ধার হয়েছে তাতে দেখা যায় মুখের বেশ কিছু অংশে মূর্তিটির ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মূর্তিটির ডান গালে ও নাকের ওপর ভেঙে যাওয়ার চিহ্ন স্পষ্ট।

ইতিহাসে কথিত আছে প্রবাদ প্রতীম এই বিপ্লবী বাঘাযতীন খালি হাতে বাঘ মেরেছিলেন বলেই তাঁর এই নামকরণ হয়। আর সেই মনীষীর আজ এই দুর্দশা সকলের কল্পনারও অতীত। কে বা কারা বাঘাযতীন এর সেই মূর্তি ভেঙেছে টা এখনো অধরা। দুষ্কৃতীরা এই হামলার পেছনে কি কারণ রয়েছে তাও স্পষ্ট না। এই ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তাও জানা যায়নি এখনো। মনে করা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রবাদপ্রতিম ছিলেন এই বাঘাযতীন। নিন্দনীয় এই ঘটনার উদ্দেশ্যে ধিক্কার জনক সমালোচনা করা হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে।পাশাপাশি ঘটনাটির পেছনে আসল উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত করছে পুলিশ।