দেশকে বাঁচাতে যুদ্ধের ময়দানে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী আন্না হাকোবায়ান (Anna Hakobyan)

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এভাবেও যে দেশের সেনাদের পাশে দাঁড়ানো যায় তা প্রমাণ করে দিল আর্মেনিয়া। বিগত বেশ কতকগুলি বছর ধরে ভয়ঙ্কর যুদ্ধের মুখোমুখি আর্মেনিয়া এবং আজারবেইজান দেশ দুটি। এ ধরনের যুদ্ধের পরিণতি হিসেবে বহু সেনা মারা গেছেন। অবস্থা প্রায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে। এমন অবস্থায় আর্মেনিয়া প্রমাণ করলো তার দেশপ্রেম। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মাঠে নামতে দেখা গেল আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে। এই ভয়ঙ্কর যোদ্ধার উত্তেজিত পরিস্থিতির মধ্যে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ার (Armenia Prime minister Nikol Pashinyan) স্ত্রী আন্না হাকোবায়ান (Anna Hakobyan) যুদ্ধক্ষেত্রে নেমেছেন কেবলমাত্র নাগরগো এবং কারাবাগকে বাঁচানোর জন্যই। দেশের প্রধানমন্ত্রী স্ত্রীর এরূপ দেশপ্রেম শেষ কবে বিশ্ববাসী দেখেছিল তা বোধহয় মনে করা সত্যিই কঠিন। Armenia Prime minister Nikol Pashinyan wife Anna Hakobyan takes military training amid war with Azerbaijan.

Armenia PM Nikol Pashinyan wife Anna Hakobyan takes military training amid war with Azerbaijan
Armenia Prime minister Nikol Pashinyan wife Anna Hakobyan takes military training amid war with Azerbaijan

শত্রুপক্ষের হাত থেকে নিজের দেশকে বাঁচাতে সেনাবাহিনীর অধীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ার স্ত্রী।এই সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে গত ২৭ শে অক্টোবর থেকে যোগ দিয়েছেন আন্না হাকোবায়ান। শুধু তাই নয় আন্না যোগ দিয়েছেন কারাবাগ রক্ষায় নিয়োজিত হওয়া মহিলা দলেও। দেশ রক্ষায় এবং দেশের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর এরূপ আচরণ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। প্রধান মন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে দেশের প্রতি যে ধরনের দায়িত্ব পালন করা উচিত তা একেবারে যথাযথভাবে পালন করছেন আন্না। সম্প্রতি আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ নেওয়া একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেই ছবিটি দেখে সারা বিশ্ববাসী আন্নার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য আধিকারিকরা এই যুদ্ধে আর্মেনিয়ার ময়দানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, মাঠে নেমেছেন তাঁরাও।যদিও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় দুই দেশের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল তবুও পরিস্থিতি আবারো হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় নতুন করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে।

উল্টোদিকে আজারবেইজানকে সমর্থন করে চলেছে তুর্কি এবং পাকিস্তান। সেই জন্য তুর্কি এবং পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি বাণী শুনিয়েছে রাশিয়া। শুধু তাই নয় রাশিয়া এই দুই দেশকে সাবধান করেছে। তবে আজারবাইজান কে সমর্থন করে একরকম ভুল করেছে তুর্কি। একদিকে রাশিয়ার সাথে দূরত্ব তো বেড়েইছে। পাশাপাশি গ্রীস এবং আমেরিকার সঙ্গে শত্রুতার পথ প্রশস্ত করেছে তুর্কি।

আর্মেনিয়া এবং আজারবেইজান এই দুই দেশের সংঘর্ষ কে ঘিরে যে ধরনের উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিশ্বব্যাপী, তা এক অর্থে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করছে। পৃথিবীব্যাপী এই দুই দেশকে ঘিরে যে ভাগাভাগি, দল গঠন তৈরি হয়েছে তা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে এমনটাই বলা যায়। Armenia Azerbaijan War.