বাবা পেশায় অটোচালক, আধপেটা খেয়ে ২১ বছরেই IAS অফিসার আনসার

মাত্র ২১ বছর বয়সেই IAS অফিসার পদে নিযুক্ত হলেন আনসার (Ansar)। ‌ ছোট থেকে লড়াই করে বড় হওয়া আনসারের জীবন কখনোই মুসলিম ছিল না। ‌তবু মনে জেদ এবং অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে দারিদ্র্য। হতদরিদ্রের সময়েও পড়াশোনা বন্ধ না করে ভারতের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় নিজেকে প্রমাণ‌ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে ওএসডি অফিসার পদে নিযুক্ত হয়েছেন এই তরুণ। Auto driver son Ansar become an IAS officer at the age of 21.

Auto driver son Ansar become an IAS officer at the age of 21
Auto driver son Ansar become an IAS officer at the age of 21

আনসারের ছোটবেলা কেটেছে মহারাষ্ট্রে। বাবা পেশায় অটোচালক এবং মা ভাগচাষী। মা-বাবার এই খুব সামান্য রোজগারে কোনো মতে সংসার চলত আনসারদের। দৈনিক ১০০-১৫০ টাকা রোজগার হতো আনসারের বাবা-মায়ের। সেই দিয়ে তিন তিনটি পেট চালানোর মুখের কথা নয়। কোন কোনদিন এমনও হয়েছে দু বেলা তো অনেক বিলাসিতা এক বেলাও পেট ভরে খাবার জোটে নি তাদের। ‌যেদিন খুব কম রোজগার হত সেদিন হয়তো আনসারের বাবা-মা অভুক্ত থেকে তাদের সন্তানের মুখে সেই দিনকার মতো খাবার তুলে দিতেন। প্রতিটি দিন ভাবতে হত পরের দিন কি খাবার জুটবে।

এহেন পরিস্থিতিতে একদিন আনসারের বাবা আনসারের স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে আনসার কে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার আরজি জানিয়ে আসেন। যদিও এই কথা শুনে আনসারের স্কুলের শিক্ষকরা এগিয়ে আসেন আনসারের পড়াশোনার হাল ধরতে। আনসার বলেছেন আত্মীয়স্বজনদের কথা শুনেই অভাবের সংসারে কিছুটা খরচা বাঁচাতে তাঁর বাবা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু আনসার পড়াশোনায় ছিলেন তুখোড়। তাই শেষমেষ ছেলের পড়া ছাড়াতে পারেননি তার বাবা। ‌ আনসারের বাবা ভেবেছিলেন পড়াশোনা ছাড়িয়ে আনসারকে সংসারের আয় বৃদ্ধির জন্য কোন কাজে লাগাবেন। কিন্তু আনসার তাতে রাজি হননি। তিনি ভালোবাসতেন পড়াশোনা করতে। আর তাই একটি হোটেলের ওয়েটার এর কাজ নিয়ে সেই কাজের ফাঁকে ফাঁকেই অবসর সময়ে ঝালিয়ে নিতেন নিজের পড়া।

অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং মনের জোরে অবশেষে ভারতের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি তে উত্তীর্ণ হন ২০১৫ সালে। আনসার ভারতে ৩৭১ তম স্থান অধিকার করেন‌ এই পরীক্ষায়। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওএসডি কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। আনসারের কথায় সেদিন যদি বাবার কথা শুনে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দিতেন আজ তাহলে তিনি নিজের জীবন যুদ্ধে হেরে যেতেন। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় নিজেকে প্রমাণ করতে পেরে আনসার এবং তার পরিবার খুশি।