ঠান্ডা জলে সাঁতার কাটুন, স্মৃতিভ্রংশ কাকে বলে এক্কেবারে ভুলে যাবেন

ছোট থেকে আমরা পড়ে এসেছি জলই জীবন। জল ছাড়া মানুষের এক মুহূর্তও বাঁচা কঠিন। যেমন তৃষ্ণা মেটায় তেমনি আনে শরীরে তৃপ্তি। আবার ঠান্ডা জলে সাঁতার কাটলে মেলে অন্যরকম উপকার। ঠান্ডা জলে সাঁতার কাটলে স্মৃতিভ্রংশের সমস্যার সমাধান হতে পারে। ঠান্ডা জলে সাঁতার কাটলে কোল্ড স্টক প্রোটিন RBM3 নিঃসৃত হয় যা আমাদের মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে। অর্থাৎ বলা যেতে পারে ঠান্ডা জলে সাঁতার কাটার সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগ রয়েছে। যা মানুষকে স্মৃতিভ্রংশের (Amnesia) হাত থেকে বাঁচায়। এমনটাই গবেষণা করে জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। Benefits of swimming in cold water – will reduce Amnesia.

কয়েকজন নিয়মিত সাঁতারুর ওপরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এই গবেষণার ফলাফলে এমনটাই জানা গেছে যে সাঁতার কাটলে স্মৃতিভ্রংশ দূর করা যায়।লন্ডনের পার্লামেন্ট হিল লিডোতে এই গবেষণা হয়েছে। জলে সাঁতার কাটলে মানুষের শক্তি ক্ষয় হয়। পাশাপাশি চলে সাঁতার কাটলে শরীর থেকে এক ধরনের বিশেষ প্রোটিন RBM3 নিঃসৃত হয়। যা সরাসরি মস্তিষ্কে বার্তা প্রেরণ করে এবং মস্তিষ্কের স্মৃতিভ্রংশ জাতীয় রোগ হওয়া থেকে মানুষকে বাঁচায়।

এই প্রোটিন সেইসব প্রাণীদের দেহে উৎপন্ন হয় যারা শীতঘুম দেয়। মানুষের শরীরে সাইন্যাপসেস নষ্ট হয়ে গেলে মনঃসংযোগ করতে অসুবিধা হয় এবং মন সবসময় বিভ্রান্ত থাকে। আর তাই জন্য যারা ঠান্ডা জলে নিয়মিত সাঁতার কাটেন তাদের স্মৃতিভ্রংশের মত রোগ চট করে ধরে না। শীতকালে ব্যাং বা সাপ বা অন্যান্য যেসকল প্রাণীরা শীতঘুম নেয় তাদের শরীরের সাইন্যাপসিস ২০ থেকে ৩০% নষ্ট হয়ে যায়। আবার বসন্ত কাল এলে তা ঠিক হয়ে যায়।

সাধারণত স্মৃতিভ্রংশ ধরা পড়লে চিকিৎসকরা এমন ওষুধ প্রয়োগ করেন যা রোগীর শরীরে RBM3 প্রোটিনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় বাইরে থেকে এই প্রোটিন প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। যাতে সেই রোগী তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন।শুধুমাত্র স্মৃতিভ্রংশ এই নয় মস্তিষ্কের অন্য সকল যে কোন রোগের ক্ষেত্রে এই প্রোটিন ম্যাজিকের মতো কাজ করে, গবেষকরা ইঁদুরের ওপর এই পরীক্ষা প্রমাণ করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। টানা তিন বছর ধরে এই পরীক্ষা চালিয়ে গেছেন গবেষকরা।

গবেষকরা বলেন শরীর ঠান্ডা থাকলে মাথায় ঠান্ডা থাকবে তাই যেকোনো অপারেশনের সময় শরীর যাতে ঠান্ডা থাকে সে বিষয়ে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। যাদের হার্টের অসুখ বা কোনো ক্ষত রয়েছে তাদের শরীর ও মাথা ঠান্ডা রাখা খুব প্রয়োজন।