দাদা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন! ভাইফোঁটার দিনে তাই বিষণ্ণ শহিদ রাজেশের বোন শকুন্তলা

দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন নিজের দাদা। সেই জন্য শকুন্তলার গর্বের শেষ নেই। নিজের দেশের জন্য এতটা কে বা করতে পারে! এত গর্বের মাঝে তবুও বিষন্নতা যেন গিলে খায় ভাইফোঁটার এই বিশেষ দিনটিতে। দাদাকে আরো যেন বেশি করে মনে পড়ে ছোট বোনের।

Brother gave his life for the country so Shakuntala sister of martyr Rajesh sad on vaifota
Shakuntala sister of martyr jawan Rajesh

লাদাখের শেষ প্রান্তে ভারত-চীন সীমান্তে সংঘর্ষে যোগ দিয়েছিলেন শকুন্তলার দাদা রাজেশ। রাজস্থানের ভারতীয় সেনা বাহিনীর অন্যতম এক সৈনিক। ১৭ জুন দেশের হয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন রাজেশ। দেশকে বাঁচাতে যুদ্ধে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে যে ওম যে শপথ নিয়েছিলেন সেদিন তিনি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। নিজের দেশকে বাঁচাতে নিজে শেষ হয়ে গিয়েছেন মুহুর্তের মধ্যে। এই নিয়ে রাজেশের পরিবারের গর্বের শেষ নেই। বাড়ির ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করছে এর চেয়ে বড় আর কি হতে পারে! কিন্তু দেশের হয়ে লড়াই করে দেশকে বুকে করে আগলে রেখে নিজে চলে গিয়েছেন। এ কথা বলতে বলতে রাজেশের পরিবারের সদস্যদের চোখে জল এসে যায়। আবার সেই গর্বের উল্টো পিঠে দেখা যায় বিষন্নতার ছায়া।

রাজেশের পরিবারের সব ভাইবোনেরা প্রতিবার মামাবাড়ি রাধাকৃষ্ণপুরে চলে আসেন একসাথে ভাইফোঁটা উদযাপন করবেন বলে। সব ভাইবোনেরা মিলে হৈ হৈ করে মজায় মেতে থাকে সারাটা দিন। বছরের এই একটা দিনের জন্যই অপেক্ষায় থাকে সবাই। অন্যান্য বারের রাজেশ সেনাবাহিনীর তরফ থেকে এক মাসের ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পূজার সময় একমাস বাড়িতে থেকে পুজো কাটিয়ে ভাইফোঁটা নিয়ে ফের সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন রাজেশ। তবে এবারের ঘটনা একেবারেই অন্যরকম। এবারে শকুন্তলার দাদা ভাইফোঁটা নিতে আর আসেননি। তবুও শকুন্তলা এবং তার মা গিয়েছে মামাবাড়ি। এটা জেনেও যে রাজেশ‌ এবারে বাড়ি আসবেন না। তবুও রাজেশের অস্তিত্ব অনুভব করতে মামা বাড়ি যান শকুন্তলা এবং তার মা। একটা সময়ে এখানেই তো হেসে খেলে ভাইবোনের সঙ্গে সময় কাটতো এই দিনটিতে রাজেশের।

রাজেশের মামা মঙ্গল সরদার এর বক্তব্য, ‘আজ এই বাড়িতে ফোঁটার আর কোনো আয়োজন নেই, বাড়ির ছেলে মারা গিয়েছে, কিভাবে ফোঁটা হবে!’ কথা বলতে বলতে গলা ধরে আসে রাজেশ-শকুন্তলার মামার, চোখ ভিজে আসে আবেগে।