Sangbad World

কৃত্রিমভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের চেষ্টা চীনের, বিপাকে পড়তে পারে প্রতিবেশী দেশ গুলি

ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাস নিয়ে বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছে জিংপিং -এর দেশকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অর্থাৎ হু-এর একাধিক বৈঠকে বারবার উঠে এসেছে চীনের (China) নাম। কোভিড ১৯ ভাইরাসের জন্য বারবার দায়ী করা হয়েছে চীন কে। পৃথিবীতে করোনার ত্রাসে যখন চারিদিক বিপর্যস্ত এবং এই করোনার দায়ভার যখন চাপানো হচ্ছে চীনের উপর ঠিক সেই মুহূর্তেই চীন মেতে উঠেছে আবারো একটি নতুন এক্সপেরিয়েন্সে। এবারে আর কোন দেশের সাথে নয়। চীনে এবারে পাঙ্গা নিতে চলেছে প্রকৃতির সাথে। কৃত্রিমভাবে প্রকৃতির পরিবর্তনের চেষ্টায় মজেছে জিনপিংয়ের দেশ।

বিশেষ বিশেষ দেশের নিজস্ব জলবায়ু বা প্রকৃতির ধরন থাকে। চীনের ও নিজ প্রকৃতির বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিন্তু নিজের দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উঠে পড়ে লেগেছে চীন। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বার কুয়াশা কাটিয়ে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে ফেলেছে এই দেশ। যখনই চীনে কোন বড় মিটিং হওয়ার কথা হয়েছে তখনই আবহাওয়া পরিষ্কার করার জন্য কুয়াশা কাটিয়ে ফেলে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে চীন। এমনকি চীনের উত্তর অংশে অবস্থিত শিনজিয়াং প্রদেশে অনাবৃষ্টির কারণে প্রতিবার ভুগতে হয় চীন কে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য ওই জায়গায় কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করেছে চীন। এবং বলা বাহুল্য সে ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা সফলতার মুখ দেখেছে এই দেশটি।

দীর্ঘ ৫ বছর ধরে কৃত্রিমভাবে প্রকৃতি পরিবর্তনের চেষ্টায় গবেষণা করে আসছে চীনের বিজ্ঞান সংস্থাগুলি। ২০১২ থেকে শুরু করে ২০১৭ সাল অব্দি প্রকৃতির পরিবর্তনের চেষ্টায় বেশ খানিকটা সফলও হয়েছে চীন। যার জন্য চীনের খরচ হয়েছে ১.৩ বিলিয়ন ডলার। এই সমস্ত ক্ষেত্রে সবেতেই যে সফল হয়েছে তা নয়, বেশ কিছু ক্ষেত্রে চীনের এই চেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়েছে। তবু চেষ্টা থামায়নি চীন। ২০০৮ সালে বেজিংয়ে যে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই অলিম্পিক চলাকালীন চীনে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানো হয়েছিল। ক্লাউড সিডিং এর মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে জমে থাকা কুয়াশা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এরপরে কৃত্রিমভাবেই ঘটানো হয়েছিল বৃষ্টিপাত। যাতে অলিম্পিকের অনুষ্ঠিত খেলাগুলি পরিচালনা করতে কোন অসুবিধা না হয় সেই জন্যই এই ঘটনাটি ঘটিয়েছিল চীন।

পরবর্তী পদক্ষেপের চীন প্রায় ৫০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে প্রকৃতির পরিবর্তনের চেষ্টা করবে। যেখানে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর সাথে সাথে বরফপাত আটকাবার চেষ্টা করা হবে যার ফলে অনেকাংশেই কমে যাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। তবে এর কুপ্রভাব পড়তে পারে চীনের প্রতিবেশী দেশ গুলিতে।

Exit mobile version