হিন্দু দেবদেবী, অমিত শাহের নামে অশালীন মন্তব্য, আটক কৌতুক শিল্পী মুনাওয়ার ফারুকী

দেশের নেতার নামে অকথা-কুকথা বলায় এক সামাজিক অনুষ্ঠান চলাকালীন ধরে নিয়ে যাওয়া হল স্টেজ পারফর্মারকে। সেই স্টেজ পারফর্মার এর নাম মুনাওয়ার ফারুকী (Munawar Faruqui)। পেশায় এই স্টেজ পারফর্মার একজন কৌতুকশিল্পী (Comedian)। জানা যায় ঘটনার দিন স্টেজে উঠে পারফর্ম করার সময় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নামে অশ্রাব্য কথা বলেন মুনাওয়ার। যার জেরে আটক করা হয় ওই কৌতুক শিল্পীকে। Comedian Munawar Faruqui arrested for making indecent remarks about Amit Shah and Hindu gods.

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে। মুনাওয়ার ফারুকী নামে ওই কৌতুক শিল্পী গুজরাটের জুনাগড় এর বাসিন্দা। ঘটনার দিন স্টেজে উঠে নিজের ঝুলিতে থাকা নানান রকম জোকস বলার পাশাপাশি শোনা যায় তিনি অমিত শাহের নামে অশালীন মন্তব্য করেন ওই স্টেজ থেকে। শুধু তাই নয় পেশায় মুসলিম এই কৌতুক শিল্পী হিন্দু দেব-দেবীদের নিয়েও নানান রকম অশালীন মন্তব্য করেন ঘটনার দিন।

শনিবার ইন্দোরের ওই ক্যাফেতে অনুষ্ঠিত মুনাওয়ার ফারুকীর লাইভ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ইন্দোরের স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক মালিনী লক্ষণ সিং গউর ছেলে একলব্য গউড়। দর্শকাসনে বসে থাকা একলব্য যখনই দেখেন মুনাওয়ার নিজের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং হিন্দু দেব-দেবীদের বিরুদ্ধে নানান রকম অশালীন মন্তব্য করছেন সেই মুহূর্তেই একলব্য নিজের ফোনে ওই ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং করতে থাকেন। সেই ভিডিও ফুটেজ নিয়েই একলব্য হাজির হন থানায়।

মুনাওয়ার ফারুকীর এই লাইভ পারফরম্যান্স টি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল ইন্দোরের একটি ক্যাফেতে। জানা যায় ওই ক্যাফে তে দর্শকদের বসানো হয় পাশাপাশি ঘেঁষাঘেঁষি করে। এই করোনা কালে যখন বারবার বলা হচ্ছে একে অপরের সঙ্গে নির্দিষ্ট দূরত্ব বিধি মেনে চলার কথা, সেই সময়ে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে এই ধরনের অনিয়ম সত্যিই কি মানা যায়! এই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। শুধু তাই নয় এই সময় সামাজিক অনুষ্ঠান করতে হলে প্রশাসনের থেকে অনুমতি পেতে লাগে কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে ক্যাফেতে মুনাওয়ার ফারুকীর ওই লাইভ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই ক্যাফে বা কেউই এই অনুষ্ঠান করার জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেয়নি।

পুলিশকে একলব্যের দেখানো সেই ভিডিও ফুটেজ এর ভিত্তিতে আটক করা হয় মুনাওয়ার ফারুকী সহ সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাঁর আরও ৫ সঙ্গীকে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫ এবং ২৬৯ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।