ভর্তি নিল না কোন হাসপাতালই, বাধ্য হয়ে রাস্তাতেই প্রসব করোনা আক্রান্ত মায়ের

অমানবিকতার পরিচয় দিল কাশ্মীর। কোভিড আক্রান্ত এক সন্তানসম্ভবাকে(Childbearing) ভর্তি নিল না কাশ্মীরের (Kashmir)কোন হাসপাতলই। একের পর এক হাসপাতাল ঘুরে কোথাও জায়গা হল না সেই সন্তান সম্ভবার। অবশেষে রাস্তাতেই সন্তানের জন্ম দিলেন সেই মা।

Pregnant women COVID-19 risk

কাশ্মীরের বেওয়ার নামে এক প্রত্যন্ত গ্রামের ঘটনা। সন্তান প্রসবের জন্য কাশ্মীরের বন্ডিপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল সেই সন্তানসম্ভবার। কিন্তু হঠাৎ করে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সেই হাসপাতাল আর ভর্তি নিতে চায় না ওই মহিলাকে। কিন্তু হঠাৎ করে প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে পরিবারের লোকেরা সেই মহিলাকে নিয়ে ছোটেন হাসপাতালে। সেই হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসকেরা ওই মহিলার বেশ কিছু পরীক্ষা করার কথা জানান। সেইসব পরীক্ষার মধ্যে ছিল করোনার পরীক্ষা ও। ওই মহিলার কোভিড (COVID-19) টেস্ট হলে রিপোর্ট পজেটিভ আসে। সেই থেকেই শুরু হয় অশান্তি।

Pregnant women COVID19 risk

ওই সন্তানসম্ভবা মহিলার (Pregnant women) কোভিড টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয় ওই মহিলাকে সেই হাসপাতালে আর রাখা যাবে না। হাসপাতাল এও জানায় ওই মহিলা যেহেতু কোভিডে আক্রান্ত তাই কোন নন কোভিড হাসপাতালেই তাকে ভর্তি করানো সম্ভব হবে না।

Pregnant women coronavirus risk

হাসপাতাল এই কথা সেই মহিলার পরিবারকে জানাবার পর ওই গর্ভবতী মহিলাকে নিয়ে তার পরিবার বন্ডিপুর জেলা হাসপাতাল থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে একটি নন কোভিড হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া মনস্থির করেন। হাজিন এলাকায় এই হাসপাতালেও প্রথমে তাকে ভর্তি নেওয়া হয় না। ফিরিয়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতলে মরিয়া হয়ে ওই সন্তানসম্ভবা কে নিয়ে দৌড়ে বেড়ায় তার পরিবারের লোকজন। কোন হাসপাতালই ভর্তি নিতে চায় না। প্রত্যেকেই অন্য হাসপাতালকে রেফার করে দেন।

Pregnant women

এই হাসপাতাল সেই হাসপাতাল ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে একটি নন কোভিড হাসপাতালের দোরগোড়ায় এসে রাস্তাতেই সন্তান প্রসব করেন সেই মহিলা। সাধারণ মানুষদের সাহায্যে এই দিন ওই মহিলার রাস্তাতেই জন্ম নেয় তার সন্তান। পথচারীরা এসে কম্বল দিয়ে ঢেকে দেন সেই মা কে। সামনেই হাসপাতাল তবুও হাসপাতালের চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের তরফ থেকে কোনরকম সাহায্যের হাত আসেনি।

স্বাস্থ্যকর্মীদের এহেন আচরণে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এ বিষয়ে তদন্ত করার কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে এই ঘটনায় যেসব স্বাস্থ্য কর্মী এবং চিকিৎসকরা জড়িয়ে রয়েছে তাদের বেতন আটকে দেওয়া হবে। কখনো কখনো মানবিকতার পাঠও দেওয়া উচিত, তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই কঠিন সিদ্ধান্ত।