অবসাদ থেকে মাদকযোগ, মাস্তানি নিয়ে অকপটে দীপিকা

তার জীবন কোন গল্পের চাইতে কোন অংশে কম নয়। ২০১৫ সালের ১৮ই ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছিল সঞ্জয় লীলা ভানশালী পরিচালিত বাজিরাও মাস্তানি ছবিটি। সেই ছবিরই ৫ বছর পূর্তিতে পুরনো দিনগুলোকে ফিরে দেখলেন মাস্তানি অর্থাৎ দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone)। স্মৃতিচারণ করলেন পুরনো দিনের দিন গুলিকে ভেবে। বাজিরাও মাস্তানির ৫ বছরের জন্মদিনে নিজেকেই একটি চিঠি লিখলেন মাস্তানি।

Deepika Padukone
Deepika Padukone

ছবিটি যখন শুটিং হয় সেই সময় নানারকম বাধার সম্মুখীন হতে হয় পরিচালক সঞ্জয় লীলা ভানসালিকে। ছবিটি যে খানের শুটিং হচ্ছিল সেই শুটিং স্পটে গিয়ে সেই গ্রামের মানুষেরা উপদ্রব শুরু করেছিলেন। কিছুদিনের জন্য আটকে গেছিল বাজিরাও মাস্তানির শুটিং। কিন্তু ছবি যখন সম্পূর্ণ হলো এবং তারপর যখন মুক্তি পেল বাজিরাও মাস্তানি তখন পরিচালক এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আর পায় কে! সুপারহিট ছক্কা হাঁকালো ছবিটি।

দীপিকার নিজের জীবনেও সংগ্রাম মাস্তানির এর চেয়ে কিছু কম নয়। ভালবাসার পথ চেয়ে প্রথমে দীপিকা হাত ধরে ছিলেন ঋষি কাপুর পুত্র রণবীর কাপুরের। কিন্তু কিছুদিন চলার পরেই দীপিকার সেই হাত ছেড়ে দেন রণবীর। সেই থেকে অবসাদ এবং মানসিক স্ট্রেস। দিনে দিনে ক্রমশই অবসাদের খাদে ঢুকে পড়তে থাকেন অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলার পর অবশেষে অবসাদের পাহাড় পেরোতে দীপিকার হাত ধরেন আরো এক রণবীর। বসন্তের বিকেল হয়ে দীপিকার জীবনে রং নিয়ে আসেন রনবীর সিং।

এর পরেই দীপিকার জীবনে আসে আরও এক খারাপ সময়। বিয়ের পর দীপিকা এবং রণবীর সিংয়ের সংসার দিব্যি চলছিল। পাশাপাশি চলছিল দুজনেরই কাজ। রণবীর সিং তো এও বলেছেন যে দীপিকা তাঁর ঘরের লক্ষী। দীপিকার সাথে বিয়ে হওয়ার পরেই একের পর এক কাজে সফল হয়েছেন অভিনেতা। কিন্তু তাদের ভালবাসায় হয়তো কারো নজর লেগেছিল। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর সামনে আসে বলিউডের মাদকচক্রের জাল। সেই জালে ধরা পড়েন দীপিকা পাড়ুকোন। মাদকচক্রের সঙ্গে তার নাম ছড়িয়ে পড়লে নারকটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর তরফ থেকে বারবার তলব করা হয় দীপিকাকে। নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর ডাকে বার বার হাজিরা দিতে হয় দীপিকাকে। এই ঘটনার সাথে এখন লড়ে চলেছেন তিনি। যদিও মাস্তানির এই সংকটের দিনে হাত ছাড়েননি বাজিরাও। কথা দিয়েছেন জীবনের শেষ দিন অব্দি এই হাত তিনি ছাড়বেন না।