পাচার হওয়া নিখোঁজ ৭৬টি শিশুকে উদ্ধার, সোশ্যালে ভাইরাল লেডি হেড কনস্টেবল

হিরো বলতে মানুষ আজকাল কেবল সেলুলয়েডের চরিত্রকেই বোঝেন। যে নায়ক অসীম দক্ষতার সঙ্গে গুন্ডার সাথে পর্দায় লড়াই করে, যে নায়ক এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে নিমেষের মধ্যে উড়েই চলে যেতে পারে, কিংবা যে নায়ক ট্রেনের ওপর লাফিয়ে চড়তে পারে অনায়াসে সেই নায়কই দর্শকদের চোখে এখন আসলি হিরো। তবে সমাজের হিরো হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে দিলেন এক মহিলা কনস্টেবল(female head constable), নাম সীমা ঢাকা (Seema Dhaka)। পাচার হয়ে যাওয়া ৭৬ টি শিশুকে এক রাতের মধ্যে খুঁজে এনে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল আইকন সীমা নামের এই মহিলা কনস্টেবল।

Delhi Police female head constable rescued 67 kidnaped children

২০০৬ সালে সীমা ঢাকা দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) কনস্টেবল পদে যোগ দেন। তারপর থেকেই একের পর এক পাচার চক্রের তদন্তে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন সীমা। তবে সফলতা সেভাবে প্রথমে আসেনি। শিশু পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ধুরন্ধর দুষ্কৃতীদের কিছুতেই ধরা যাচ্ছিল না হাতেনাতে। এর পরেই এই শিশু পাচার চক্র কে ধরার দায়িত্ব পড়ে সীমার উপর। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গেই সীমা তাঁর দায়িত্ব পালন করেন।

তদন্তে নেমে পাচার হয়ে যাওয়া ৭৬ টি শিশুকে উদ্ধার করেছেন দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল সীমা দেবী। উদ্ধার হওয়া ওই ৭৬ টি শিশুকে নিজে হাতে তুলে দিয়েছেন তাদের মা বাবার হাতে। ২০২০ সালে নিখোঁজ হয়ে যায় প্রায় ৩৫০৭ জন শিশু। বেশ কিছু মাসের তদন্তে তাদের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয় ২৬২৯ জন শিশুকে। যে সমস্ত চক্র শিশু পাচার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সেই সব চক্রগুলি ২০১৯ সালে ৫৪১২ জন শিশুকে পাচার করেছিল। পাচার হয়ে যাওয়া এই শিশুদের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল ৩৩৩৬ জন শিশুকে।

আমাদের দেশে প্রতি বছর লাখ লাখ শিশু পাচার হয়ে যায় বিভিন্ন পাচার চক্রের মাধ্যমে। পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীরা শিশু পাচার করার পাশাপাশি নারীদেরও পাচার করে থাকে ভিনদেশে। এভাবে আমাদের দেশ থেকে কত নারী কত শিশু পাচার হয়ে যায় তার হিসেব হয়তো আমরা রাখতে পারিনা। তবে
কিছু ক্ষেত্রে পাচার চক্রের হাত থেকে শিশুদের যে ফিরিয়ে আনা যায়, তা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিলেন একজন লেডি কনস্টেবল। এ ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। সীমা মুহূর্তের মধ্যেই সমাজের হিরো হয়ে ওঠেন। আমাদের সমাজে এই সব হিরোর সত্যিই খুব প্রয়োজন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর পড়ে বহু মানুষ সীমাকে আশীর্বাদ এবং ভালোবাসা জানিয়েছেন। সীমা নিজেকে এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সফলভাবে তদন্ত করে সেই শিশু গুলিকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে পেরে নিজেও ভীষণ খুশি।