Shabnam Case: যৌবনের উদ্দাম প্রেম থেকে ফাঁসির সাজা! স্বাধীন ভারতে প্রথম মহিলার ফাঁসির প্রস্তুতি

Shabnam Case - Shabnam and her boyfriend
Shabnam Case – Shabnam and her boyfriend

Shabnam Case: গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষে অনেকবারই ফাঁসি দেওয়া হয়েছে পুরুষ দের। নির্ভয়া কান্ডে ২০২০ র মার্চ মাসে দোষীদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হয়েছে। তবে স্বাধীনতার ৭৩ বছর পরে এই প্রথম ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ বলি দেবেন একজন মহিলা। সেই মহিলার নাম আমরোহার শবনম (Shabnam)। ইতিহাসে তার নামই খোদাই হয়ে থাকবে। Execution of Shabnam Case first woman to be hanged post-independent India.

Shabnam Case - Shabnam & her boyfriend
Shabnam Case – Shabnam

২০০৮ সালে ১৪ ই এপ্রিল আমরোহার শবনম তার প্রেমিকের সঙ্গে চুক্তি পরামর্শ করে পরিবারের সবাইকে খুন করে। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট তার ফাঁসি দেওয়ার কথা ঘোষণা করায় শবনম (Shabnam) তার প্রাণভিক্ষার আর্তি জারি করেন কিন্তু তা কোনোভাবেই গ্রহণ হয় না। এমনকি রাষ্ট্রপতি ও এই আর্জি প্রত্যাখ্যান করেন। গোটা দেশে মহিলাদের ফাঁসির মঞ্চ শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশের মথুরাতে আছে। দেড়শ বছর আগে এই মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু আজ পর্যন্ত সে মঞ্চ কোনো কাজে আসেনি। এই প্রথম শবনমকেই নিজের প্রাণ বলি দিয়ে ইতিহাসের খাতায় নিজের নামকে নথিভূক্ত করে যাবে। নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীদের ফাঁসি দিয়েছিলেন মিরাটের পবন জল্লাদ। এবারেও শবনমকে (Shabnam Case) ফাঁসি দেবেন পবন জল্লাদ।

Shabnam Case - Shabnam and her boyfriend hanged post-independent India
Shabnam Case – Shabnam and her boyfriend

ইতিমধ্যেই মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে গেছে। এমনকি জল্লাদও উত্তরপ্রদেশে (UP) এসে মঞ্চের চারিপাশ ভালো করে দেখে শুনে নিয়েছেন। বিহারের বাস্কার থেকে ফাঁসির দড়ি আনা হবে এমনটাই জানা গিয়েছে। জেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক শৈলেন্দ্র কুমার বলেছেন যে, এখনো ফাঁসির দিন নির্ধারণ করা হয়নি। তবে নির্ধারণ হয়ে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শবনম (Shabnam)-কে ফাঁসি দেওয়া হবে। সবকিছুই প্রস্তুত আছে। শেষ মুহূর্তে যদি কিছু পরিবর্তন না হয়ে থাকে তাহলে ফাঁসির দড়িতে শবনমই একমাত্র মহিলা যার ফাঁসিতে মৃত্যু হবে।

উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলার হাসানপুর এলাকার বাওয়ান খেদি গ্রামে বসবাসরত শিক্ষক শওকত আলীর একমাত্র মেয়ে হল শবনম (Shabnam)। শওকত আলীর পরিবারে ছিলেন স্ত্রী হাশমি, ছেলে আনিস, রসিদ পুত্রবধূ আনজুম এবং মেয়ে শবনম সাথে ১০ বছরের নাতি আরশ। মেয়ে শবনমকে তিনি ভীষণ ভালোবাসতেন। শবনম স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করে শিক্ষকতা করতেন। তবে গ্রামের একটি ছেলে সেলিমের সাথে তার ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সেটাই তার জীবনে এবং পরিবারে কাল হয়ে দাঁড়ায়। সেলিমের সাথে তার এই সম্পর্ক পরিবার মানতে নারাজ। কিন্তু শবনম নিজেও ছিলেন এক রোখা। সে কোনভাবেই এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। ফলে প্রতিদিন রাতে প্রেমিকের সঙ্গে পরামর্শ করে বাড়ির প্রত্যেক সদস্যকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেখা করতে যেতেন। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকে। একদিন তার দিদি আসেন। সেদিন সেলিমের সাথে পরামর্শ করে তিনি ঘুমের ওষুধ খাইয়েছেন তো বটেই সাথে বাড়ির সাত জন সদস্যকে কুপিয়ে খুন করেন ঘুমন্ত অবস্থায়। পরের দিন সকাল হতেই সারা গ্রামে বলে বেড়ায় দুষ্কৃতীরা তাদের বাড়িতে হামলা করেছে। কিন্তু তার কথা বিশেষ কার্যকর হয়নি পুলিশের মনে সন্দেহের বীজ সৃষ্টি হয় তাকে নিয়ে। ফলস্বরূপ সলিম এবং শাবনাম কে তারা কঠোর জেরা করেন। দীর্ঘ জেরার পর সলীম এবং শবনম স্বীকার করে নেন যে তারা খুনটা করেছেন। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নেন যে তাকে ফাঁসি দেওয়া হবে এবং সেই সাজা বহাল রাখেন। শবনম প্রাণভিক্ষার আরজি করলেও তা কোনোভাবেই কার্যকর হয়ে ওঠেনি।