দিল্লি অবরুদ্ধ করার হুমকি কৃষকদের! গভীর রাতে বৈঠকে অমিত শাহ

বেশ কিছুদিন ধরেই রাজধানীর বুকে সংশোধিত কৃষি আইন (farmer bill) নিয়ে টুকরো টুকরো বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকেরা। তবে পাঞ্জাব হরিয়ানা থেকে দিল্লী পর্যন্ত আসা আন্দোলনকারী দলের বিক্ষোভ যে বীভৎস রূপ নিয়েছে তা এর আগে কখনো ঘটেনি। এই আন্দোলনকারীরা দিল্লি ঘেরাও করে অবরোধ করার ডাক দিয়েছে। এ ঘোষণার পর অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতারাতি বিজেপি (BJP) সভাপতি জে পি নাড্ডার বাড়িতে বৈঠক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সেই বৈঠকে জে পি নাড্ডা, অমিত শাহ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার।

Farmers threaten to block Delhi, Amit Shah in a late night meeting

হরিয়ানা দিল্লি (Delhi) সীমান্তে বিক্ষোভকারী কৃষকেরা হুমকি দিয়েছেন সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার‌। পাশাপাশি দিল্লিতে এমন আকার ধারণ করেছে যাতে দিল্লি পুলিশ বাধ্য হয়েছে দিল্লির কিছু প্রধান সড়ক বন্ধ করে দিতে‌। কোন গাড়িই টিকরি, সিংঘু বর্ডার লাইন পেরোতে পারছে না। অশান্তির ভয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই সমস্ত রাস্তা।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পূর্বেই ঘোষণা করেছিলেন সারা দিল্লিতে আন্দোলন না করে বিক্ষোভকারী কৃষকরা যদি বিজেপির চিহ্নিত করে দেওয়া জায়গা দিল্লির বুরারিতে তাদের আন্দোলন সরিয়ে নিয়ে আসে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আন্দোলন দেখান তাহলে এই শর্ত সাপেক্ষে ৩ ডিসেম্বর কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন অমিত শাহ। এই শর্তে বিক্ষোভকারী কৃষকেরা রাজি তো হননি উল্টে তারা হুমকি দিয়েছে এই আন্দোলন কে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার। এই হুমকির পরই গাজিপুর এর কিছুটা অংশ সিল করে দেয় পুলিশ। যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় সেখানে। যদিও ইতিমধ্যেই বেশকিছু প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন আন্দোলনকারী কৃষকেরা। তার মধ্যে রয়েছে সোনিপথ , জয়পুর, গাজিয়াবাদ- হাপুর এবং মথুরা- দিল্লি।

বিক্ষোভকারীদের কৃষকদের এই আন্দোলনের মূল দাবি হল সংশোধিত কৃষি আইন বাতিল করা এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করা। পাঞ্জাব হরিয়ানা থেকে আসা আন্দোলনকারী কৃষকের দলটিকে দিল্লিতে ঢোকার মুখে পুলিশ আটকাতে চাইলে পুলিশ এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এই বচসা এমন জায়গায় পৌঁছয় যে দিল্লি পুলিশ বাধ্য হয় আন্দোলনকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামানে ছুঁড়তে। পরে দিল্লি পুলিশের এই ধরনের আক্রমণাত্মক ব্যবহার নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক সৃষ্টি হয়। দিল্লি পুলিশের এই ধরনের অমানবিক আচরণকে নিন্দাজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।