বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকে ৩০০ জন জঙ্গি খতম হয়েছে বলে দাবি করলেন প্রাক্তন পাক কূটনীতি

পাকিস্তানের (Pakistan) বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার আক্রমণে প্রাণ গিয়েছে প্রায় ৩০০ জন জঙ্গির, ঘটনার এতদিন পর এই ধরনের মন্তব্য উঠে আসলো পাকিস্তানের তরফ থেকে। এক পাকিস্তানি চ্যানেলে বিতর্ক সভায় অংশ নিয়েছিলেন পাকিস্তানের এক প্রাক্তন আমলা। আঘা হিলালী নামে সেই পাকিস্তানি প্রাক্তন আমলা বিতর্ক চলাকালীন হঠাতই বলে ওঠেন ভারতের বায়ু সেনার (Indian Air-force) আক্রমণে বালাকোটে প্রাণ যায় প্রায় ৩০০ জঙ্গির। Former Pakistani diplomat claims Balakot airstrike kills 300 militants.

আঘা হিলালীর এই মন্তব্যের ফলে রীতিমতো চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান প্রশাসন। কারণ ভারতীয় সেনার বালাকোট আক্রমণের পরে পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল যে বালাকোটে কোন জঙ্গি ঘাঁটিই নাকি ছিলনা। তবে বালাকোটে যদি কোন জঙ্গি ঘাঁটি নাই থাকে তাহলে প্রাক্তন ওই হামলা কি করে বললেন যে বালাকোট আক্রমণে প্রায় ৩০০ জঙ্গীর প্রাণনাশ হয়েছে! এই প্রশ্নই তোলা হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। অর্থাৎ সেই সময়ে পাকিস্তান ভারতীয় বায়ুসেনার আক্রমণে জঙ্গি নিধন সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য লুকিয়ে গিয়েছিল যা বর্তমানে প্রকাশ পেয়েছে প্রাক্তন সেই আমলার কথায়।

২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের বায়ু সেনার তরফ থেকে পাকিস্তানের বালাকোট জঙ্গি ঘাঁটিতে আক্রমণ চালানো হয়। এই ঘটনার মাত্র ১৩ দিন আগে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় পাকিস্তানের আক্রমণে মৃত্যু হয় প্রায় ৪০ জন সিআরপি জওয়ানের। এই ঘটনার বদলা হিসেবেই ভারত পাকিস্তানের বালাকোট জঙ্গি নিধনে সেই হামলা চালায়।

আঘা হিলালী সেই দিন পাকিস্তানি চ্যানেলের ওই বিতর্ক সভায় এই ধরনের মন্তব্য করার ফলে ইমরান খান সরকারকে রীতিমতো বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়। ওই বিতর্ক সভায় পাকিস্তানি প্রাক্তন ওই আমলা ভারতীয় বায়ুসেনার ওই অভিযান কে অ্যাক্ট অফ ওয়ার বলে উল্লেখ করেছেন। হিলালী আরো বলেন ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত টপকে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল ভারতীয় বায়ুসেনার হাই কমান্ডার। সেই কথা মত ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যখন ডগ ফাইট চলছিল তখন পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি করে মিগ-২১ বাইসন বিমানকে নামিয়ে আনা হয়। সেই বিমান মাটিতে পড়ে গেলে পাকিস্তান ভারতীয় বায়ুসেনা পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পাকিস্তানের প্রাক্তন আমলা আঘা হিলারির এই স্বীকারোক্তির ফলে পাকিস্তান কে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।