হাথরসের অবশেষে প্রবেশাধিকার মিলল সংবাদমাধ্যমের

হাথরসের ঘটনায় এখনো সরগরম গোটা দেশ। জাতীয় রাজনীতিতে ঘটে চলেছে একের পর এক তরজা। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে আটকে দেওয়া হয় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। এরপরে তৃণমূলের সাংসদরা ওই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে আটকে দেওয়া হয় তাদেরও।


অবশেষে হাথরাসে আক্রান্তের পরিবারের সাথে দেখা করতে পারলো সাংবাদিক দল। গতকাল সারাদিন ধরে আমরা দেখেছি কিভাবে রাথরাসে আক্রান্ত এর পরিবারের সাথে সাংবাদিকদের কথা বলার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করার চেষ্টা চালায় উত্তর প্রদেশ পুলিশ, সমস্ত বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে গতকাল সারাদিন ধরে পুলিশ এর অপর ক্রমাগত চাপ সৃস্টি করা হয় এবং আজ অবশেষে হাথরাসের সেই গ্রামের প্রধান রাস্তার উপর দেওয়া ব্যারিকেড সরিয়ে দিতে বাধ্য হয় উত্তর প্রদেশ পুলিশ।

দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও বিভিন্ন মহলের চাপে অবশেষে উত্তরপ্রদেশের হাথরসে ধর্ষিত যুবতীর বাড়ির সামনের ব্যারিকেড তুলল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ৷ ধর্ষিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গ্রামে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হল সংবাদমাধ্যমকে৷ এছাড়া এও জানা গেছে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী আজ আবার আক্রান্ত পরিবার এর সাথে দেখা করতে যাবেন এবং তাঁর সাথে থাকবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ কংগ্রেসের আরো ৩৫ জন সাংসদের দল।


সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় সংবাদমাধ্যমের কাছে ধর্ষিতার পরিবার জানালেন, তাঁরা চান তাঁদের মেয়ের প্রতি এই জঘন্য অপরাধের অর্থাৎ ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত হোক সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে৷ একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তৈরি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) অভিযুক্তদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ করেন তাঁরা৷ তাঁদের ফোন কেড়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন৷ এমনকী সিবিআই তদন্তও চান না নির্যাতিতার পরিবার৷ তাঁদের একটাই দাবি, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চাই৷ যদিও প্রশাসন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন হাথরস সদরের এসডিএম প্রেম প্রকাশ মীনা৷ তাঁর বক্তব্য, ‘মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া সহ প্রশাসনের বিরুদ্ধে পরিবারের যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন৷’

উত্তরপ্রদেশে সরকার ও পুলিশের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেত্রী উমা ভারতীও৷ তিনি উত্তরপ্রদেশ সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, হাতরসের ওই গ্রামে সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদে ঢুকতে দেওয়া হোক৷ তাঁদের ধর্ষিত যুবতীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত৷