পাকিস্তানে হিন্দু মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো মৌলবাদীরা, ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হল দেব-দেবীর মূর্তি

পাকিস্তানে হিন্দুরা সংখ্যালঘু, তাই তাদের উপর আক্রমণ চালানো খুব সহজ এই ধরনের মন্তব্যে পাকিস্তানে সোশ্যাল মিডিয়া ছেয়ে গেছে। মানসিকভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন পাকিস্তানের হিন্দুরা (Pakistani Hindu)। সম্প্রতি পাকিস্তানের ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একটি হিন্দু মন্দির (Hindu temple)। ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায়।

জানা যাচ্ছে মৌলবাদীরা এই ধরনের আক্রমণের সাথে জড়িয়ে রয়েছে। হঠাৎই পাকিস্তানের (Pakistan) খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায় সেই মন্দিরে আক্রমণ চালায় মৌলবাদীরা। টেরি গ্রামের সেই মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় মন্দিরের সমস্ত চিহ্ন। দেব দেবীদের বের করে মন্দির থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় বাইরে। হিন্দুদের চোখের সামনেই এই ঘটনা ঘটতে থাকে। সেই জায়গায় উপস্থিত বেশ কিছু প্রত্যক্ষদর্শী সেই ঘটনা ক্যামেরাবন্দী করেন। তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হয় সেই ভিডিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার সঙ্গে সঙ্গেই রীতিমতো ভাইরাল হয়ে পড়ে সেই ছবি। জনরোষের মুখে পড়তে হয় ইমরান খানের সরকার কে। নিন্দা মূলক সমালোচনা দেখা দেয় পাকিস্তানের এই ঘটনাকে ঘিরে।

চোখের সামনে এই ধরনের আক্রমণাত্মক ঘটনা দেখে কিছুই বলতে পারেননি পাকিস্তানের হিন্দু রা। কিন্তু এই ছবি ও ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে তা পাকিস্তান প্রশাসনের চোখে পড়ে। এই ঘটনার নিন্দা করেন পাকিস্তান প্রশাসন। পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় ২৬ জন মৌলবাদী কে। জানা যায় যে ২৬ জন কে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা এই আক্রমণাত্বক ঘটনার সাথেই জড়িত ছিল। অবশ্য এরা একাই না, এই ঘটনায় ওই ২৬ জন ছাড়াও আরো যারা যুক্ত ছিল, তাদের খোঁজ চালাচ্ছে পাকিস্তান প্রশাসন।

পাকিস্তানের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন পাকিস্তানের ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রী নুরুল হক কাদেরী। কিছু দুষ্কৃতী এই ঘটনা ঘটিয়ে পাকিস্তানের নাম খারাপ করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তান কখনো সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার কথা শেখায়নি।

সংখ্যালঘুদের ভাবাবেগে আঘাত করার ঘটনা পাকিস্তানে এই প্রথম না। কিছুদিন আগেই করাচির লেহেরি তে এক হিন্দু ছেলের নামে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করার অপবাদ দিয়ে হিন্দু মন্দির ভাংচুর করা হয়েছিল। তেরি গ্রামের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে নুরুল হক কাদেরী জানান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সব দুষ্কৃতী কে শাস্তি দেওয়া হবে, কাউকে বাদ দেওয়া হবে না।