পাকিস্তানে ধর্ষকদের লিঙ্গচ্ছেদ করার আইন পাশ! ইমরান খানের মন্ত্রীসভায়

এবার থেকে পাকিস্তানে (Pakistan) কোন মহিলাকে ধর্ষণ (rape) করা হলে ধর্ষকের যৌনাঙ্গে রাসায়নিক প্রয়োগ করে যৌনাঙ্গ অকেজো করে দেওয়া হবে এমনটাই খবর পাকিস্তান সংবাদ চ্যানেল সূত্রে। ধর্ষকের এইরূপ শাস্তির বিষয়ে আলোচনা করা হয় পাকিস্তান মন্ত্রিসভায়। যদিও পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা করা হয়নি। পাকিস্তানের সংবাদ চ্যানেল জিও টিভি এই সংবাদ প্রকাশ করেছে।

Imran Khan's cabinet passes law to rapists Genital mutilation  in Pakistan
Imran Khan’s cabinet passes law to rapists Genital mutilation in Pakistan

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan) জানিয়েছেন ধর্ষণের যেকোনো মামলার বিচার হবে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে। এ ধরনের ঘটনা ভীষণ স্পর্শকাতর হয় তাই এই ধরনের মামলায় দেরি করা যাবে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এবার থেকে পাকিস্তানে ধর্ষণের ঘটনার বিচার হবে। পাশাপাশি ধর্ষিতা যাতে কোন রকম অসুবিধা ছাড়াই পুলিশ এবং প্রশাসনকে এই ঘটনা জানাতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে পাক সরকারের তরফ থেকে। পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর পরে ধর্ষিতার যাতে প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা না থাকে সেই বিষয়েও নিশ্চিত করবে পাক সরকার। পাশাপাশি ধর্ষিতার পরিচয় গোপন থাকে সেই বিষয়েও দৃষ্টি নিক্ষেপ করা হবে পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে।

এই বিষয়ে আলোচনার সময় পাকিস্তান মন্ত্রিসভায় দাবি করা হয় ধর্ষণের ঘটনায় যদি কোন মন্ত্রী অভিযুক্ত থাকেন তাহলে তাঁর ক্ষেত্রে ফাঁসি দেওয়া হবে কিনা। এ বিষয়ে বলা হয় প্রথমে রাসায়নিক দিয়ে যৌনাঙ্গ অকেজো করে দেওয়া হবে তারপর ধাপে ধাপে বিচার হবে। সূত্রের খবর ইমরান খান বলেছেন দেশবাসীকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব সরকারের। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই ধর্ষণ নিয়ে নতুন যে নিয়ম জারি হতে চলেছে সেই আইন হবে আরো বেশী কঠিন এবং স্বচ্ছ। যদিও এই বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে এখনও সরাসরিভাবে কোনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে তেহরিক-ই-ইনসাফ এর তরফ থেকে টুইট করা হয় যে খুব শীঘ্রই ধর্ষণ নিয়ে পাকিস্তান সরকার নতুন আইন আনতে চলেছেন।

ধর্ষণ নিয়ে হঠাৎ করে এত তৎপর কেন হল পাকিস্তান সরকার এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০১৮ সালের লাহোর এর একটি ঘটনায়। ওই বছর লাহোরে একটি শিশুকে গণ ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। এরপর সেই ধর্ষক দের শাস্তি দেওয়া নিয়ে একপ্রস্থ সমস্যার সৃষ্টি হয়। এরপর এই ইমরান খান পার্লামেন্টে জানান ধর্ষণের ঘটনা এবং শিশুদের উপর অত্যাচার কমাতে শীঘ্রই আনতে চলেছে পাক সরকার। নতুন ত্রিস্তরীয় আইন হবে আরো বেশি স্বচ্ছ এবং কঠিন। ধর্ষক এবং নিগ্রহকারী রা যাতে সঠিক সাজা পায় তার জন্য পুলিশি তৎপরতা কার্যকর করতে হবে।