ক্ষোভে ফুঁসছে মুসলিম বিশ্ব! যেকোনো পরিস্থিতিতে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রোর প্রতি ভারতের সমর্থন

ফ্রান্সে ঘটে চলা মুসলিম মৌলবাদের বিরুদ্ধে ডাক দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (French President Emmanuel Macron)। সাম্প্রতিক মুসলিম জঙ্গির এক শিক্ষকের মুন্ডচ্ছেদ এবং ফ্রান্সে মোহম্মদের কার্টুন দেখানো নিয়ে রীতিমতো উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি। তুরস্ক প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এর্দোগান (Turkish President Recep Tayyip Erdogan) এ বিষয়ে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিরুদ্ধে তোপ দেখেছেন। ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে ম্যাক্রোঁকে। India fully supported French President Macron

Narendra Modi support French President Emmanuel Macron
Narendra Modi support French President Emmanuel Macron

এই বিষয়টিকে ঘিরে বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে ম্যাক্রোঁকে। যা একেবারেই অনুচিত। মুসলিম জঙ্গিদের (Muslim militants) তরফ থেকে যে জঘন্য অপরাধ করা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি শিক্ষকের মাথা কেটে নেওয়ার মতো অভব্য আচরণের প্রতিবাদ করে জনমত গঠনের ডাক ডাকা হয়েছে। এই ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে ফ্রান্সের দেশবাসী এবং সেই শিক্ষকের পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। The Muslim world is in a frenzy against French President Macron

জানা গিয়েছে সেই শিক্ষকের নাম স্যামুয়েল প্যাটি(Samuel Patty)। ৪৭ বছরের এই শিক্ষক তার শ্রেণিকক্ষে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয় পড়াতে গিয়ে মোহম্মদের একটি কার্টুন দেখান তার ছাত্রদের। মোহম্মদ হলেন ইসলামদের ধর্মগুরু। ঘটনার সূত্রপাত সেইদিন থেকে। এ ঘটনাকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করে মাত্র ১৮ বছরের এক তরুণ সেই ফরাসি শিক্ষকের শাস্তি হিসেবে তার মুন্ডচ্ছেদ করেছে।

এ বিষয়ে ভারতে কর্মরত ফ্রান্স রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে লড়াই ভারত এবং ফ্রান্স করছে তার জন্য তিনি গর্বিত। ভারতকে এজন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে তার তরফ থেকে। এ ঘটনাকে ঘিরে #স্ট্যান্ডউইথফ্রান্স ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। বলা হচ্ছে ভারতেই নাকি এর সূত্রপাত। বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা শীঘ্রই প্যারিস পরিদর্শনে যাবেন। এর থেকে ফ্রান্স এবং ভারতের ঘনিষ্ঠতা যে ক্রমশ বাড়ছে এ ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়।

ফ্রান্সের পাশে ভারত ছাড়াও এই ঘটনায় এসে দাঁড়িয়েছে নেদারল্যান্ডস। নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে বলা হয়েছে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীকে যে অকথ্য ভাষায় ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে তা নীতিবিরুদ্ধ, নেদারল্যান্ডস তার বিরোধিতা করে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কে সমর্থন জানিয়ে এদিন নেদারল্যান্ডসের তরফ থেকে বলা হয় কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হতে পিছপা হবে না নেদারল্যান্ডস।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা কে সমর্থন জানানো হয়েছে কানাডার তরফ থেকেও। বলা হয়েছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেকেরই নিজের মতো করে আছে। এ বিষয়ে ফ্রান্সে পাশে দাঁড়িয়েছে কানাডা। তুরস্কে ঐরূপ বিরূপ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কানাডা।