Manya Singh: অটোচালকের মেয়ে থেকে মিস ইন্ডিয়ায় রানার্স!

Manya Singh, Auto Driver's Daughter to Miss India 2020 Runners!
Manya Singh, Auto Driver’s Daughter to Miss India 2020 Runners!

সম্প্রতি ভিএলসিসি মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড (Miss India World 2020) অনুষ্ঠিত হয়েছে এ বছরে মুম্বাই শহরে। সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুন্দরীরা যোগ দিয়েছেন এই প্রতিযোগিতায়। তার মধ্যে ভারতের তিন কন্যা সেরার তালিকায় আছেন। প্রথম হয়েছেন তেলেঙ্গানার মানসী বারানসি (Manasa Varanasi)। ভিএলসিসি ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ডের (Miss India 2020) তিনি হলেন বিজয়িনী। এবং মিস গ্র্যান্ড ইন্ডিয়া হলেন হরিয়ানার মনিকা শিখন্ড (Manika Sheokand)। আর ফেমিনা মিস ইন্ডিয়ার রানার-আপ হলেন উত্তরপ্রদেশের (UP) মান্যা সিং (Manya Singh)। তিন জনের তালিকায় মান্না সিং রানার-আপ বলে বিবেচিত হয়েছেন। Manya Singh, Auto Driver’s Daughter to Miss India 2020 Runners!

Manya Singh Miss India 2020 Runners, auto driver daughter
Manya Singh Miss India 2020 Runners, auto driver daughter

প্রাক্তন মিস ওয়ার্ল্ড মানসী চিল্লার ভুয়সী প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন তাদের। সাথে চিৎকার করে বলে উঠলেন ‘কাঁচের ছাদ এবার কাঁপবে।’ তাঁর কথার পেক্ষাপটে মানুষকে বুঝিয়ে দিলেন যে ইন্ডাস্ট্রিতে অভিজাতদের দিন এবার শেষ। এবং এই তিনজনকে নিয়ে প্রাক্তন মিস ওয়ার্ল্ড তার বিশেষ বক্তব্য রেখেছেন।

এরপরই সুন্দরী প্রতিযোগিতার সেই মঞ্চ থেকে উত্তরপ্রদেশের মান্যা ছোট থেকে এই পর্যন্ত জীবন দৌড়ের লড়াইয়ের কাহিনী বলতে শুরু করেন। মান্যা (Manya Singh) বলেন তিনি একজন অটোচালকের মেয়ে। প্রচন্ড দরিদ্র এবং বিনিদ্র পরিবার থেকেই তার জীবনের উত্থান। কুর্নিশ নগরে তার জন্ম। সেখান থেকেই চোখে স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠা। স্বপ্নপূরণের জেরে চোখের জল এবং রক্তকে জল করে অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল তিনি আজ হাতেনাতে পেয়েছেন।

তিনি আরো বললেন এই সাফল্য পেতে গিয়ে দিনরাত এক করে যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে নিজের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তা কোনোভাবেই ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কখনো সারাদিন না খেয়ে দৌড়ে যাচ্ছি আবার কখনো সামান্য কিছু টাকা বাঁচানোর তাগিদে মাইলের পর মাইল হেঁটে চলে যাচ্ছি। দিন রাত কিভাবে কাবার হয়ে যাচ্ছে সেই সময়টুকু উপলব্ধি করার মত সময় ছিল না। কেবল দু চোখে শুধু স্বপ্নপূরণের লড়াই বয়ে বেড়াতাম এবং এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমি আমার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখে এগিয়ে নিয়ে গেছি। তিনি আরো বলেন যে পড়াশুনা করার জন্য যে খাতা বই প্রয়োজন সেটুকু পর্যন্ত তাঁর কেনার সামর্থ ছিল না। নিজের যেটুকু গয়না ছিল তা বন্দক রেখেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন কারণ তাঁর মনে হয়েছে শিক্ষার থেকে বড় কোনো অস্ত্র হয় না। যে কোনো প্রতিকুল পরিস্থিতিতে উদ্ধার হওয়ার জন্য সেটাই হবে আমার একমাত্র বড় পন্থা।

প্রয়োজনীয় পোশাক টুকু জোগাড় করার সামর্থ ছিলনা। মান্যার (Manya Singh) কথায়, ‘তাই সকালবেলা উঠে পড়তাম এবং রাতের বেলা কল সেন্টারে কাজ করতাম নিজের খরচটুকু নিজে চালানোর চেষ্টা করতাম।’ তবে তিনি একথা বলেছেন যে তার মা তাকে মোটিভেট করতেন। তবে পড়াশোনা করতে গিয়ে অটোচালকের মেয়ে হওয়ায় এবং প্রচন্ড দরিদ্র পরিবারের সদস্য হবার কারণে কারোর কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পান নি। আজ সেখান থেকে একটু একটু করে এগিয়ে আসার পর যে সাফল্য অর্জন করেছেন তার অংশীদার তার মা-বাবা এবং ভাই সকলের। এত কষ্টের পর আজ সেটার পরিণতি পেল বলে মান্যা জানিয়েছেন। তার এই লড়াকু জীবনের কাহিনী সমাজের আরো পাঁচটি মেয়েকে লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে সাহস যোগাবে। পরবর্তীকালে তন্বী মান্যা ম্যানেজমেন্ট পড়ার চিন্তাভাবনা নিয়েছে।