মুর্শিদাবাদের পর এবার বীরভূম, কবিগুরুর শান্তিনিকেতনে মিলল জঙ্গি ডেরার হদিশ

মুর্শিদাবাদের পর এবার বীরভূম। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ সূত্রে খবর মুর্শিদাবাদ থেকে আল-কায়েদা যোগে ৬ জন কে গ্রেফতারের পর আরও ৬ জনকে গ্রেফতার করা হল প্রতিবেশী জেলা বীরভূম থেকে। স্বয়ং কবিগুরুর মাটিতে মিলল জঙ্গি ডেরার হদিশ।বীরভূম থেকে যে ৬ জন কে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে, পুলিশ সূত্রে খবর তার মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশী।

শান্তিনিকেতন থানা এলাকায় তালতোড় গ্রামের এক বাড়িতে ঘাঁটি গেড়েছিল এই দল টি। সেই বাড়ি থেকে এই দলটিকে গ্রেফতার করার সময় উদ্ধার হয়েছে বহু অস্ত্রশস্ত্র।সোমবারই তাদের বোলপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয় বলে জানায় শান্তিনিকেতন থানা এলাকার পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশের সন্দেহ এই জেলায় বড়োসড়ো জঙ্গী ঘাঁটির হদিশও মিলতে পারে। গ্রেফতার করা এই ছয় জন কে জেরা করছে পুলিশ।

জানা যায়, মুর্শিদাবাদে ৬ জন জঙ্গিকে আটক করার পরই আশেপাশের জেলাগুলিতে বাড়তি নজরদারির কথা বলা হয় নবান্নের তরফ থেকে।সেই মতই সতর্কতার সাথে কাজ চালাচ্ছিল পুলিশ।রবিবার হঠাৎই গোপন সূত্র থেকে খবর পায় পুলিশ এবং তড়িঘড়ি হানা দেয় ওই গ্রামে।রাতের অন্ধকারে যে বাড়িতে ওই ৬ জন লুকিয়ে ছিল রাতারাতি সেই বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ।ওই দল টি পালাতে চেষ্টা করলে পুলিশ তখন তাদের আটক করে। ওই ৬ জন কে আটক করে পুলিশ তাদের থেকে উদ্ধার করে বহু আগ্নেয়াস্ত্র। শুধু তাই নয়, তাদের থেকে পাওয়া যায়,নাইন এমএম পিস্তল ও বোমা তৈরির মশলা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, যে বাড়িতে ওই ছয় জন ভাড়া ছিল সেই বাড়ির মালিক এখানে থাকেন না। প্রায় চার মাস আগে ওই বাড়িটি ভাড়া নেয় ৪ বাংলাদেশি, এমনটাই জানতেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু তাদের আসল পরিচয় তাঁরা জানতে পারেননি।

রবিবার রাতে পুলিশ ওই গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালানোর পরেই এলাকাজুড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। জানা যায় আটক হওয়া ওই চার বাংলাদেশি যুবক আশেপাশের স্থানীয় যুবকদের অস্ত্র ও বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিত। তবে এলাকায় বা রাজ্যে কোন বড়োসড়ো নাশকতার ছক তাদের ছিল কিনা সে বিষয়ে এখনও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ, জেরা করা হচ্ছে ওই ছয় যুবক কে।

বেশ কয়েক বছর আগে বীরভূমের খাগড়াগড়ে বড়োসড়ো জঙ্গি ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। আবারো ফের বীরভূমে জঙ্গী ঘাঁটির হদিশ পেতে চলেছে বলে মনে করছে পুলিশ।এর আগে মুর্শিদাবাদে খোঁজ মিলেছে আল কায়দা যোগের। স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি তৎপরতা দেখাচ্ছে প্রশাসন।