“মহিলাঘটিত কেচ্ছা থেকে ব্যবসা, সব নোংরা কেলেঙ্কারিতে ভর্তি!” দিলীপকে আক্রমণ জ্যোতিপ্রিয়র

তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিজেপি সভাপতি। অথচ ভরা সভায় তাঁর বিরুদ্ধেই কটু কথা বলতে শোনা গেল রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রীকে। নিউটাউন গৌরাঙ্গ নগরের নিবেদিতা পল্লীর এক জনসভায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) বিরুদ্ধে কটুক্তি করতে শোনা গেল রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে (Jyotipriya Mallick)।

Minister Jyotipriya Mallick attacks BJP's president Dilip Ghosh...

জ্যোতিপ্রিয় এদিন একেবারে খোলাখুলিভাবে যা নয় তাই বললেন দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। কালী পূজার সন্ধ্যায় নিউটাউনের একটি বস্তিতে আগুন লেগে যায়। উজাড় হয়ে যায় একের পর এক ছাউনি ঘেরা ঘর। কোন ভাবে প্রাণে বাঁচে সেখানকার অধিবাসীরা। পালিয়ে প্রাণ বাঁচালেও বাঁচাতে পারেননি নিজেদের এক ফালি বাসস্থান কে। বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে ৩৭ টি পরিবারের বাড়ি। গৃহহীন বহু মানুষ। এই সকল মানুষকেই আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্যে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়। সেই জনসভায় উপস্থিত হন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এছাড়াও নিউটাউনের গৌরাঙ্গ নগরের ওই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিডিও, স্থানীয় নেতা সহ রাজারহাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর কর সহ প্রমুখ।

নিউটাউনের ওই বস্তি পুড়ে যাওয়ায় যে সকল মানুষ গৃহহারা হয়েছিলেন তাঁদের সাময়িকভাবে স্থানীয় একটি স্কুলে জায়গা দেওয়া হয়। গৃহহীনদের সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে সেদিন সেই জনসভায় ৩৫ হাজার টাকা করে তুলে দেওয়া হয় সেই গৃহহীনদের হাতে। এদিন ভরা সভায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দিলীপ ঘোষের উদ্দেশ্যে বলেন, “দিলীপ ঘোষ ক্লাস টু পাশ। ওনার কথা কেউ ধরবেন না। মাঝে মাঝে জে পি নাড্ডা এবং অমিত শাহ রাজ্যে আসেন আর দিলীপ তাদের ম্যাপ দেখায়। পশ্চিমবঙ্গে মোট ৭৭ হাজার বুথ। তারমধ্যে ১০ হাজার ভোটে বিজেপি এজেন্ট দিতে পারবে কিনা সন্দেহ। সবকটাকে এই জেলায় নাকানি-চুবানি খাইয়ে হারিয়ে দেবো।”

স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নজর এখন ২০২১ বিধানসভা ভোটের দিকে। এ প্রসঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ” ২০২১-এর মেয়ে মাসের পর যতগুলো বিজেপি নেতা আছে সব জেলে ঢুকবে।” জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কথায়, বিজেপির সব নেতা অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এমন সব কাজকর্ম তারা করে, তাদের এমন এমন কেচ্ছা-কেলেঙ্কারি রয়েছে যা মুখে আনতে ও লজ্জা করে জ্যোতিপ্রিয়র। মহিলা ঘটিত মামলা থেকে টাকা চুরি সবেতেই নাম জড়িয়েছে বিজেপি নেতাদের। ওদের সবার চিটিংবাজ মানসিকতা। এমন সব বিস্ফোরক মন্তব্য এদিন জনসভায় দাঁড়িয়ে করেছেন জ্যোতিপ্রিয়।