মৃত্যুর কাছে পরাজিত ‘অপরাজিত অপু’, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলা ইন্ডাস্ট্রির নক্ষত্র পতন, চলে গেলেন ফেলুদা। কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে জীবনাবসান সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের (Soumitra Chatterjee), হাসপাতালেই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন মুখ্যমন্ত্রীর। কান্নায় ভেঙে পড়লেন সৌমিত্র কন্যা পৌলোমী (Paulomi)। সৌমিত্রের জীবনাবসানে অনাথ হল টলিপাড়া। নিজের সৃষ্টি কে বাঁচিয়ে রেখে অমরত্বের পথে হাঁটা লাগালেন ক্ষিদ্দা।

Veteran legendary Bangla cinema actor Soumitra Chatterjee dies at 85 in Kolkata
Veteran Bangla cinema actor Soumitra Chatterjee dies at 85 in Kolkata

সৌমিত্রের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে টুইটে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বার্তা রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল, রাহুলের। ওপার বাংলা থেকে হাসিনার শোকবার্তাও এসে পৌঁছেছে শেষ যাত্রায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করে লিখেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবন অবসানে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি সহ সারা পৃথিবীর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, হিরে হারালো সিলভার স্ক্রীন। বাংলা সিনেমার অন্যতম নক্ষত্র ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আজ তার জীবনাবসানে নক্ষত্রখচিত হল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। বাংলা সিনেমাকে এক আলাদা স্থানে পৌঁছে দিয়েছিল এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। সৌমিত্রের উদ্দেশ্যে শোক বার্তা জ্ঞাপন করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা।

চলে গেলেন বটবৃক্ষ। সৌমিত্রের জীবনাবসানে অভিভাবকহীন হল টলিউড (Tollywood)। পরিচালক থেকে অভিনেতা অভিনেত্রী চোখের জলে বিদায় দিলেন ফেলুদাকে। নক্ষত্র পতনে হাহাকার‌ পড়ল সংস্কৃতি জগতে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে তাঁকে। প্রধানমন্ত্রী বাংলায় টুইট করে লিখেছেন, শ্রী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণ চলচ্চিত্র জগৎ, পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কাজের মধ্যে বাঙালির চেতনা, ভাবাবেগ ও নৈতিকতার প্রতিফলন পাওয়া যায়।তাঁর প্রয়াণে আমি শোকাহত। শ্রী চট্টোপাধ্যায় পরিবার ও অনুরাগীদের সমবেদনা জানাই। ওঁ শান্তি।

জে পি নাড্ডা টুইটারে লিখেছেন ” জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ। ওঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনে অভিনয়ের জন্য প্রচুর সম্মান পেয়েছেন। নতুন প্রজন্মকেও অনুপ্রেরণা দিতে থাকবে তাঁর কাজ। পরিবার ও অগণিত ভক্তদের জানাই সমবেদনা। ওঁ শান্তি।”

একাধারে লেখক, নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেতা হিসেবে সারা জীবনে সৌমিত্র বাবু তাঁর কাজের স্বরূপ হিসেবে পেয়েছেন প্রচুর পুরস্কার। তিনবার জাতীয় পুরস্কার, পদ্মভূষণ, দাদাসাহেব ফালকে পুরষ্কারে পুরস্কৃত করতে পেরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আজ গর্বিত। বামপন্থা ঘরানায় বিশ্বাসী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ভাবধারা তাঁর শেষ ছবি বরুণবাবুর বন্ধু তেও ফুটে উঠেছিল।

মৃত্যুর পরে সৌমিত্রের মৃতদেহ বেলভিউ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর নিজের বাড়িতে। এরপর সৌমিত্র বাবু কে নিয়ে যাওয়া হয় টেকনিশিয়ান স্টুডিও তে। সেখান থেকে রবীন্দ্রসদনে ঘণ্টা দুয়েকের জন্য রাখা হয় তাঁকে। সেখানেই শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সহ সমগ্র কলকাতাবাসী। সৌমিত্র কে শেষ দেখা দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়ে রবীন্দ্র সদনে। এরপর সৌমিত্রের শেষ যাত্রায় পা মেলান পুরো শহর। পদযাত্রা করে ফেলুদাকে নিয়ে যাওয়া হয় কেওড়াতলার উদ্দেশ্যে।