চোখে জয়ের আশা, হাথরাসেও লড়াইয়ের মশাল হাতে সীমা

২০১২ সালে দিল্লির কুখ্যাত নির্ভয়া গণধর্ষণ কান্ডের প্রতিবাদে প্রথম থেকেই সামিল ছিলেন আইনজীবী সীমা সম্রিদ্ধি। এবার উত্তর প্রদেশের হাথরাস জেলার বুকে ১৯ বছরের কিশোরীর উপর হওয়া গণধর্ষণ এর প্রতিবাদে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সেই মামলা বিনা পারিশ্রমিকে মাননীয় সুপ্রিমকোর্টে লড়বার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্ভয়া মামলায় প্রথম থেকেই আক্রান্তের পরিবারের পাশে ছিলেন এবং দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর অভিযুক্তদের (মুকেশ সিংহ, অক্ষয় সিংহ ঠাকুর, পবন কুমার গুপ্তা ও বিনয় কুমার শর্মা ) দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজা দেন মাননীয় সুপ্রিমকোর্ট এই বছর মার্চ মাসের ২০ তারিখ, উত্তর প্রদেশের ভূমিকন্যা তার নিজের রাজ্যে হয়ে যাওয়া এই ঘৃন্ন ঘটনার পর নিজেকে আর ঘর বন্দি রাখতে পারেননি তিনি পাশে এসে দাড়িয়েছেন আক্রান্তের পরিবারের।

হাথরাসে পৌঁছে তিনি বলেছেন, “শুরু থেকেই এই মামলা পর্যবেক্ষণ করেছি আমি। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি।” একটি সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সীমা হাথরাসের মেয়েটির হয়ে লড়বেন বিনা পয়সায়, ফি নেবেন না। ফোনে সিমা দেবীর ওই পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সিমা দেবী প্রথম প্রচারের আলোয় আসেন ২০১১ সালে anti-corruption আন্দোলনের সময় তারপর একের পর এক জনস্বার্থ মামলা লড়ে সমাজে ঘটে চলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন।


দিল্লি বিশ্লবিদ্য়ালয়ের ছাত্রী সীমা ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টে ওকালতি শুরু করেন। ২০১৪-র ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত তিনি ওই ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।সেই থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদে সওয়াল করে গেছেন এভাবেই। নারী নির্যাতনের একাধিক ঘটনায় আইনজীবী হিসেবে লড়াই করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে পিছপা হননি একদিনের জন্যও।


উন্নাওয়ের ধর্ষিতার হয়েও তিনি লড়বেন এমন ঘোষণা করেছিলেন। নির্ভয়া কাণ্ডে যেভাবে তিনি অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করে সুবিচার যুগিয়েছেন, এই ঘটনার ক্ষেত্রেও তিনি সুবিচার দেওয়াতে পারবেন এমনটাই আশা করছেন সীমা।

এখনো অব্ধি চারজনকে এ ব্যাপারে গ্রেফতার করেছে উত্তর প্রদেশের পুলিশ বিভাগ। দলিত মেয়েটির পরিবারের দাবি, তার জিভ কেটে দেওয়া হয়। ঘটনা ঘটে যাবার বেশ কিছুদিন পর্যন্ত মেয়েটি অচৈতন্য অবস্থায় থাকেন তার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানান্তরিত করা হয় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে, ১৪ দিনের লড়াই শেষে মেয়েটি মারা যায়।আশা করা যায় সীমা দেবীর হাত ধরে দোষী ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তি হবে।

seema-kushwaha-nirbhayas-lawyer-reached-hathras