স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্বেও নাকাল রোগী, গুনতে হচ্ছে নার্সিংহোমের বিল

স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্বেও চিকিৎসা পরিষেবা পেলেন না এক রোগী। বাঘাযতীন স্টেশন এর কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে যাওয়া হয় ওই রোগীকে। ভর্তির সময় স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দেখালে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে সেই বেসরকারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অবশেষে নগদ তাকাতেই চিকিৎসা করাতে হয় ওই রোগীর পরিবার-পরিজনদের। Swasthya Sathi card red plus nursing home did not take it,

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার। Zee 24 ঘন্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাঘাযতীন স্টেশন এর কাছে রেড প্লাস নার্সিংহোমে ভর্তি করাতে নিয়ে যাওয়া হয় অসুস্থ শিখা রানী সেনকে। রেড প্লাস নার্সিংহোমে শিখা রানীকে নিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি হবার পরামর্শ দেন সেই হাসপাতালের চিকিৎসক। জানা যায় আগের দিন রাত থেকেই অসহ্য পেট ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন শিখা রানী দেবী। সকালেও মায়ের পেট ব্যথা কমেনি দেখে বাধ্য হয়ে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য তার ছেলে কানু সেন ছোটেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি হবার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কিন্তু কানু ছেলের কাছে পর্যাপ্ত পরিমান টাকা না থাকায় এবং স্বাস্থ্য সাথী কার্ড সঙ্গে থাকায় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড জমা দেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন এই কার্ডের বিনিময়ে তার মায়ের চিকিৎসা হওয়া সম্ভব নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কানু সেন কে জানানো হয় যেহেতু তার মায়ের অপারেশন হবে না তাই এই কার্ড গ্রহণ করতে পারবেনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। টাকা দিয়েই চিকিৎসা চালাতে হবে শিখা রানী দেবীর।

কানু সেন জানান স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর মাধ্যমে এই প্রথমবার কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এবং তার ব্যবহার বিধি সম্পর্কে তাই তার কোন ধারণাই ছিলনা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড গ্রহণ করতে না চাইলে বাধ্য হয়ে মায়ের চিকিৎসা করানোর জন্য সেই হাসপাতালেই মাকে ভর্তি করেন কানু। কানুর মতে যেহেতু তাদের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড সম্পর্কে কোন ধারণা নেই তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই সুযোগ নিয়ে রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানান, স্বাস্থ্য ভবন থেকে অনুমোদন না পেলে তাঁরা কিছু করতে পারবেন না। বর্তমানে মহাজনের থেকে সুদ নিয়ে মায়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে হচ্ছে কানু কে।