প্রাচীন শিব মন্দির সংস্কারের সময় মিলল সোনার ভান্ডার, আনন্দে আত্মহারা গ্রামবাসী

জায়গাটির নাম উটিরামেরু। তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) কাঞ্চিপুরমে চেন্নাই থেকে যার দূরত্ব কেবল ৯০ কিলোমিটার। মন্দিরের শহর নামে পরিচিত উটিরামেরুতে রয়েছে প্রচুর সংখ্যক নানাবিধ মন্দির। বিভিন্ন দেবদেবীর মন্দির দিয়ে সাজানো এই স্থান। এমনই একটি মন্দিরের ভেতর থেকে পাওয়া যায় সোনার খন্ড। সিনেমার মতো শোনালেও এই ঘটনা নিজের চোখে দেখেছেন সেই গ্রামের বাসিন্দারা। Tamil Nadu villagers went to renovate the ancient temple and found a treasure trove of gold.

Tamil Nadu villagers went to renovate the ancient temple and found a treasure trove of gold

ঘটনাটির সঙ্গে যে মন্দিরটি জড়িত তা একটি প্রাচীন শিব মন্দির (Shiv Temple)। বহু বছর ধরে এই শিব মন্দিরে পুজো হয়নি। সেভাবে মানুষের প্রবেশও ঘটেনি এই মন্দিরে বহুদিন। স্বাভাবিকভাবেই মন্দিরের অবস্থা হয়ে পড়েছিল খুবই সঙ্গীন। শিব মন্দির সংস্কার করে তাতে আবার পুজো চালু করার কথা বলেন গ্রামবাসীরা। সেই কথামতো গ্রামবাসীদের উদ্যোগে এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শুরু হয় সেই শিব মন্দির সংস্কারের কাজ। সংস্কার করতে করতেই হঠাৎই সেই শিব মন্দির থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমানের সোনা। পরে সেই সোনা ওজন করে জানা যায় তা পরিমাণে প্রায় আধ কিলো। ৫৬৫ গ্রাম ওজনের সোনার জিনিসপত্র উদ্ধার হয় সেই মন্দিরের ভেতর থেকে।

সেই মন্দির পরিষ্কার করতে করতে মন্দিরের গর্ভগৃহের সিঁড়ির নিচে হঠাৎই খুঁজে পাওয়া যায় সোনার জিনিস পত্র। যা দেখে প্রথমে গ্রামবাসীরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তারা এই ঘটনার কথা মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়। আর তারপরে শুরু হয় বচসা। মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় অশান্তি। গ্রামবাসীরা চেয়ে ছিলেন সেই সোনা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে। কিন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি জানার পরে তা সরকারের হাতে তুলে দেওয়াই স্থির করেন। সেই কথামতো ঘটনাস্থলে মন্দির কর্তৃপক্ষ ডেকে পাঠায় পুলিশ কে। পুলিশ এসে মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে ঝামেলা থামাবার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মন্দিরে খুঁজে পাওয়া সোনা উদ্ধার করে নিয়ে যায় স্থানীয় পুলিশ। এরপরে তা সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পৌঁছলেও মন্দির থেকে উদ্ধার হওয়া সেই সোনা পুলিশের হাতে তুলে দিতে চায়নি গ্রামবাসীরা। সেই সোনা তারাই উদ্ধার করেছে তাই সেই সোনা নিজেদের মধ্যেই ভাগ করে নিতে চেয়েছিলেন তারা। গ্রামবাসীদের কথায় মন্দিরের গর্ভগৃহের নিচে সোনা থাকা খুবই শুভ ঘটনা। তা সরিয়ে নিয়ে গিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ হিন্দু ভাবধারায় আঘাত করেছেন।