কাতার বিশ্বকাপের জন্য কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু ঘটলো প্রায় ৩,০০০ ভারতীয়র

Three thousand Indian workers died in Qatar in the wake of the Qatar World Cup 2022
Three thousand Indian workers died in Qatar in the wake of the Qatar World Cup 2022

Qatar World Cup 2022: ভারতীয় শ্রমিকদেরকে ঘিরে বড়োসড়ো প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কাতার সরকারকে। ২০১০ এর বিশ্বকাপের পর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ কাতারে হবে বলে ফিফার তরফে দাবি। কাতারকে বিশ্বকাপের সমস্ত আয়োজন করতে বলা হয়েছে এবং সেখান থেকেই বিতর্কের সৃষ্টি। বিশ্বকাপ যে সময় হয় তখন কাতারে অসম্ভব গরম থাকার ফলে দ্বিমত সৃষ্টি হয়। সেই কারণে ২০২২ এর বিশ্বকাপ শীতকালে হবে বলে জানানো হয়। তাই কাতার সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে বিশ্বকাপ হওয়ার জন্য যা যা পরিকল্পনা ও পরিকাঠামো দরকার তা এই মুহূর্তে শুরু করে দেওয়াই ভালো। About 3,000 Indians died while working for the Football World Cup 2022 in Qatar.

কাতার সরকারের কথা অনুসারে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ হবার জন্য যা যা পরিকাঠামো দরকার তা ইতিমধ্যেই শুরু করে দেওয়া হয়েছিল। খুব দ্রুত শেষ করবার কারণে তারা বিভিন্ন দেশের থেকেও শ্রমিক নিয়োগ করেছেন। নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং ভারতের বহু শ্রমিক সেখানে কাজ করতো। সব মিলিয়ে অনেক সংখ্যক শ্রমিক কাতারের স্টেডিয়াম তৈরির কাজে নিযুক্ত ছিলেন। সূত্রের খবর সেখানে কাজ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক নাকি মারা যায়। এবং সব থেকে অদ্ভুত বিষয় হলো মারা যাবার সংখ্যার মধ্যে বেশির ভাগটাই ছিল ভারতীয় শ্রমিক। এই বিষয়টি কেবল ভারতীয়দের নয় অনেক দেশ বিদেশের প্রথম সারির লোকদের কাছেই বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার শ্রমিকের মৃত্যু হয় যার বেশিরভাগই ছিল ভারতীয় শ্রমিক।

একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গবেষণায় দেখা গেছে যে নানারকম দেশের থেকে শ্রমিক এখানে কাজ করতো। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৬৭৫০ জন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে ভারতীয় শ্রমিক ছিল ২৭৭১ জন। এই রিপোর্ট অনুসারে তারা দাবি করেছিল যে শ্রমিকদের স্টেডিয়াম পরিকাঠামো তৈরি করার জন্য নিয়োগ করা হলেও, তাদের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে অনেক পরিশ্রমী কাজ করানো হতো। যা তাদের করার কথাও নয় এবং আগে থেকেও জানানো হতো না। তাদের জোর করেই এই কাজ করানো হতো বলে জানিয়েছে গবেষক দল। এবং এই কঠিন পরিশ্রম তারা নিতে পারতো না বলেই অকালে শ্রমিকরা মারা যায়।

বিপরীত দিকে কাতার সরকার কোনভাবেই এই দাবি মানতে রাজি নয়। কাতার সূত্রে জানানো হচ্ছে যে তারা স্বাভাবিক কারণেই মারা যায়। তাদের প্রতি এমন কোনো কাজ বা অত্যাচার করা হতো না যার কারণে তাদের মৃত্যুটা কোন অস্বাভাবিক কারণে পরিণত হবে। এবং তথ্য অনুযায়ী গবেষকদল বলেন যে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে নিয়ম করে বর্তমান পরিস্থিতিতেও প্রত্যেক সপ্তাহে ১২ জন করে শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। তার সঠিক কারণ এখনও কিছু জানা যায়নি। তবে এই বিষয়ে পুলিশকে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে গবেষক দল। Three thousand Indian workers died in Qatar in the wake of the World Cup.