ট্রাম্প সমর্থকেরা ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হামলা চালায়, সংঘর্ষে মৃত ৪, উত্তাল আমেরিকা

গত বছরের ৩রা নভেম্বর আমেরিকার (America) নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন জো বাইডেন (Joe Biden)। এই নির্বাচনের উপর সীলমোহর পড়া বাকি ছিল। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শংসাপত্র পেতে আমেরিকার কংগ্রেসের ক্যাপিটাল বিল্ডিংয়ে হাজির হয়েছিলেন জো বাইডেন সহ একাধিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ব্যক্তিত্বরা। কিন্তু ঐতিহাসিক এই ঘটনা সাক্ষী রইল এক হিংসাত্মক ঘটনার। ঘটনার দিন প্রাক্তন আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্মথকরা এই ঘটনার বিরুদ্ধাচারণ করে আক্রমন চালালো ওয়াশিংটন ডিসির কংগ্রেসের ক্যাপিটাল বিল্ডিংয়ে। Trump supporters attack US Capitol building, 4 killed in clashes, turbulent America.

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের এহেন ঘটনায় মুখ পুড়েছে প্রাক্তন আমেরিকান প্রেসিডেন্টের। সারা বিশ্বজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এবারের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকেই নিজের হার মেনে নিতে পারেননি প্রাক্তন আমেরিকান রাষ্ট্রপতি। সেই থেকেই নানা রকম হিংসাত্মক এবং আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প কে। সেই হুমকি অবশেষে পরিণত হল কাজে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের এহেন আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই আমেরিকার কংগ্রেস বিল্ডিং ঘিরে ফেলে পুলিশ। হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের এক ধরনের খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। হামলাকারীদের কংগ্রেস বিল্ডিং থেকে সরানোর জন্য পুলিশ এবং হামলাকারীদের মধ্যে বারবার সংঘর্ষ বাধতে শুরু করে। হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের এই সংঘর্ষের ফলে বেশ কয়েকজন হামলাকারী আহত হন, আবার কিছু হামলাকারী মারাও গেছেন বলে খবর আমেরিকান পুলিশ-প্রশাসন মারফত। ব্যারিকেড ভেঙে আমেরিকার কংগ্রেস বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে পুলিশ বনাম হামলাকারীদের এই সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছে প্রায় ৪ জন হামলাকারীর। পাশাপাশি বেশ কিছু জন আহতও হয়েছে বলে জানা যায়। এই ঘটনায় আমেরিকান পুলিশ ৫০ জন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রাক্তন আমেরিকান প্রেসিডেন্টের এই আচরণে সমালোচনামূলক নিন্দার ঝড় উঠেছে রাজনীতির ময়দানে। এই ঘটনার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করেন। তিনি বলেছেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়া উচিত। যে হিংসাত্মক ঘটনা ওয়াশিংটন ডিসি ঐদিন ঘটেছে তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গণতন্ত্র এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। প্রাক্তন আমেরিকান রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশের কাছে ঐদিনের এই ঘটনা ‘হৃদয়বিদারক এবং ঘৃণ্য’ বলে মনে হয়েছে।

বিভিন্ন জনসভা থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানান সময় নানান রকম হুমকি শোনা যেত। পিছু হটতে না চেয়ে বারবার আক্রমণাত্মক হুমকি দিতে শোনা গিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। বারবার ভোট জোচ্চুরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এমনকি বুধবার শেষ বারের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প কে হুমকি দিতে শোনা যায়। আর তার পরেই আমেরিকার কংগ্রেসের ক্যাপিটাল বিল্ডিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের এই হিংসাত্মক আক্রমণ ঘটে।